কলকাতা: তৃণমূলের (TMC) ৩০ হাজার পদাধিকারীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ভোকাল টনিক দিয়ে এদিন বলে দেন বুথের লড়াই ঠিক করে দিলে তৃণমূল কংগ্রেস ২৩০ পাবে।  আর অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বললেন - প্রত্যাশিত ফল হলেই তবেই পুরভোটে টিকিট পাবেন। না হলে নয়।

Continues below advertisement

ভোটের ৮দিন আগে ভার্চুয়াল বৈঠকে পদাধিকারিদের ফর্মুলা অভিষেকের। এদিনের বৈঠকে তিনি বলেছেন, 'আগামী ১৫ দিনের ওপর সকলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ভাল কাজ মানে পুরস্কার পাবেন;। প্রায় ৩০ হাজার পদাধিকারিদের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'পুর ভোটে জিতব, কিন্তু লোকসভা-বিধানসভায় খাটবো না, সেটা হবে না'।   

টার্গেট বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি অন্তর্দ্বন্দ্ব দূর করার নির্দেশ অভিষেকের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারএন সম্পাদকের কথায়, 'এমন অনেক জায়গায় ইগো, মতানৈক্য, মনোমালিন্য কাজ করছে। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করার ভোট। আমাদের শৈথিলতা কাজ করলে, পরে হা হুতাশ করার জায়গা থাকবে না। গোষ্ঠীকোন্দল, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, মনোমালিন্য থাকলে মিটিয়ে নিয়ে কাজ করতে হবে। একত্রিত থাকলে কেউ হারাতে পারবে না তৃণমূলকে'। 

Continues below advertisement

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'দল সবার ওপর নজর রাখছে। বিধানসভার ফল ঘোষণার ৬-৭ মাসের মধ্যে পুরভোট। প্রত্যাশিত ফল হলেই তবেই টিকিট পাবেন, না হলে নয়। অমিত শাহ যত থ্রেট দেবে তত আপনাদের লড়াই দৃঢ় হবে। জিতছে না বলেই এরা ইডি ব্যবহার করছে। ভোটের শতাংশ আর আসন ২০২১ সালের থেকেও টপকে যাবে তৃণমূলের। কাল থেকে গ্রামে গ্রামে চাটাই বৈঠক, বোঝান বিজেপি এলে কী ক্ষতি হবে। ২৩ ও ২৯ তারিখ বুথ আগলে রাখতে হবে। স্ট্রং রুমকে গার্ড দিতে হবে, খালি সিসিটিভি দেখলে হবে না। কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকে হুমকি দিলে সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন। ভোটের দিন ভোর ৫ টা থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে দলের'। 

এদিকে, মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি নির্দেশ দেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও জোর দিন। পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিকে সিস্টেম বানিয়েছে তৃণমূল। এখানে নোটের খনি পাওয়া যায়। এবারও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া নেতা টিকিট পেয়েছে। মোবাইল থেকে পুরনো ভিডিও বের করে দেখান। বাস, ট্রাম, অটো, রিক্সা, মেট্রোতে সেই ভিডিও সকলকে দেখান এবং সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিন।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'মহিলাদের সঙ্গে ছোট ছোট মিটিং করুন। ভিডিও দেখান। সব ঘটনার কথা মনে করান। কসবা ল কলেজের ঘটনা, সন্দেশখালি ঘটনা। ডাক্তার বোনের সঙ্গে কী হয়েছিল সেটা বলুন। মা-বোনদের কান্নার ভিডিও দেখান'।