রাজীব চৌধুরী, বহরমপুর : প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের সময় চরম উত্তেজনা ছড়াল। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ। দুই পক্ষের স্লোগান যুদ্ধ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় বিক্ষোভকারীদের।

Continues below advertisement

কী ঘটনা ?

আজ যখন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অধীর চৌধুরী তাঁর নির্বাচনী প্রচারে যান, তার আগে থেকেই সকালে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বদেব কর্মকারের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা দলীয় কর্মসূচি পালন করছিলেন। অধীর চৌধুরী যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা 'গো ব্যাক' স্লোগান এবং তাঁর কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঠেলাঠেলি, ধস্তাধস্তি, কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় সেই সময়। ঘটনাস্থল থেকে কোনওক্রমে অধীর চৌধুরীকে বের করে নিয়ে আসেন কেন্দ্রীয়বাহিনীর জওয়ানরা। অন্য পথ দিয়ে নিয়ে যান তাঁকে। সেখানে প্রচার শুরু করেন কংগ্রেস প্রার্থী। এই ঘটনা চলাকালীন উভয়পক্ষের একে অপরকে লক্ষ্য করে স্লোগান, পাল্টা স্লোগানের জেরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকায়। 

Continues below advertisement

এ প্রসঙ্গে রাসবিহারীর কংগ্রেস প্রার্থী আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী বহরমপুরে ব্যাপ মার্জিনে জিতবেন। এই ভয় তৃণমূল আগে থেকেই পাচ্ছে। তাই তৃণমূলকে সবরকম অসাধু প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাদের ধ্বজ তুলে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু, সেটা হবে না। মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে নেই। শুধু সেখানে নয়, যেখানে যেখানে কংগ্রেস সক্রিয় সেটা বহরমপুর হোক, রাসবিহারী হোক, বাধার দেওয়ার সম্পূর্ণ চেষ্টা চলছে। আমরা শুধু বলছি নির্বাচন কমিশন কী করছ ? এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা ? কেউ গ্রেফতার হয়েছে ? তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী ঘুরে বেড়াচছে শুধু নয়, বহরমপুরজুড়ে তারা বাইরে থেকে লোক আনছে। বাইরে থেকে কংগ্রেসকে লোক আনতে হয় না। গুণ্ডাবাহিনী তৃণমূলের সঙ্গে থাকে এবং এই  আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি করেই তৃণমূল সমস্ত জায়গায় নৈরাজ্য তৈরি করার চেষ্টা করছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাংলার মানুষ দেখছে।"

অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা বলেন, "আজ হঠাৎ করেই দেখছি বাইরে থেকে গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে এসে কংগ্রেস প্রার্থী এই এলাকায় ব়্যালি করছিলেন। নির্বাচনী ব়্যালি সবাই করতে পারেন। ওঁর সঙ্গে যে কেন্দ্রীয়বাহিনী আছে, তিনি যেভাবে বন্দুকের ভয় দেখালেন সেটাই আমাদের কাছে একটা...উনি ভাবছেন যে ওঁর হারিয়ে যাওয়া মাটি বহরমপুরে, আতঙ্কিত করা মাটি, সাধারণ মানুষ অধীর চৌধুরীকে গো ব্যাক বলেছেন। এটা আমাদের খুব ভাল লেগেছে।"