উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর কাছে হারেন দীর্ঘদিনের সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুর আসন, অধীর চৌধুরীর দুর্গ হিসেবেই পরিচিত । সেখান থেকেই লোকসভা ভোটে হারেন তিনি তৃণমূলের ইউসূফ পাঠানের কাছে। এবার সেই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই অধীর চৌধুরীকে প্রার্থী করতে চলেছে কংগ্রেস। এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, কয়েকদিনের মধ্যেই এআইসিসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে কংগ্রেস, খবর সূত্রের।
কিছুদিন আগেও তাঁকে প্রার্থী হচ্ছেন কি না প্রশ্ন করা হলে অধীর বলেন, ভোটে লড়বেন কি না সিদ্ধান্ত নেননি। বলেন, কংগ্রেস দল, সবাই একসঙ্গে লড়বে। তবে অধীর বলেন, ভোটে লড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। অবশেষে জানা যাচ্ছে, বিধানসভা ভোটে লড়বেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তিনি। এবার ঘোষণাটুকুই অপেক্ষা।
কীভাবে বহরমপুর হয়ে ওঠে অধীর গড়
রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী । ১৯৯১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেবার তিনি জয় পাননি। ১৯৯৬ সালে একই আসন থেকে বড় জয় পেয়েছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী । তার পর আর অধীর চৌধুরীকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বহরমপুর হয়ে ওঠে অধীর গড়। লোকসভা ভোটেও বারবার বহরমপুর বড় লিড দিয়েছে তাঁকে। তবে গতবারের লোকসভা নির্বাচনে হার ছিল বিরাট ধাক্কা। তারপর ফের বিধানসভার লড়াইয়ে ফিরতে চলেছেন অধীর।
২৫ বছর পর বহরমপুর হাত-ছাড়া হয় অধীরের
১৯৯৯ সাল থেকে বহরমপুরের সাংসদ ছিলেন অধীর চৌধুরী। ২০২৪ এর বিধানসভা ভোটেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অধীর। কিন্তু ফলাফলে চমকে যায় গোটা বাংলা। ভিন রাজ্য থেকে আসে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে যান তিনি। ৮৫ হাজার ২২ ভোটের ব্যবধানে বহরমপুর গড় হাতছাড়া হয় অধীরের। ২৫ বছর পর বহরমপুর হাত-ছাড়া হয়। ফোটে ঘাস-ফুল। জয়ী হন ইউসুফ পাঠান। এবছর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ২৯৪ আসনে একাই লড়ছে। অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট করছে না। দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
