কলকাতা: ভোটের দামামা বাজতেই ময়দানে হেভিওয়েটরা। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-এর পর এবার রাজ্যে এলেন অমিত শাহ। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে 'চার্জশিট' পেশ করেন তিনি। এই চার্জশিট পেশ করার আগে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

Continues below advertisement

অমিত শাহ জানান, তৃণমূল যতই বলুক এই চার্জশিট বিজেপির চার্জশিট, কিন্তু এটা আসলে বাংলার মানুষের চার্জশিট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট। তিনি জানান, 'তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই ৩৫ পাতার চার্জশিট।' 

সাংবাদিক বৈঠক থেকে বাংলার মানুষকে বার্তা দেন, ' এই ভোটে বাংলার মানুষকে ঠিক করতে হবে। ভয়-কে বেছে নেবেন নাকি ভরসা-কে বেছে নেবেন। ভয়ের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়ে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেভাবেই বাংলাকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এবারের ভোট এটাই। ১৫ বছরে ভয়, দুর্নীতি, মিথ্যা, হিংসার রাজনীতি করে নতুন রাজনীতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কোনও সরকারের কাজ জনগণের কল্যাণের জন্য হয়, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস মিথ্যা, ভয় ও হিংসার রাজনীতির জন্য সরকারের আসে।''

Continues below advertisement

তিনি আরও জানান, ' এই যে চার্জশিট, এটা তৃণমূলের দুর্নীতির চার্জশিট। সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে সিন্ডিকেট রাজ্যে পরিণত করে বাংলার মানুষদের শোষণ করার কাহিনী এটা।' পাশাপাশি তৃণমূলের পঞ্চ বিপর্যয় নিয়েও মন্তব্য করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ' এখানে ঘুষখোরদের সুরক্ষা দেওয়া হয়। দুর্নীতি এখানে একটা রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। কাটমানি নেওয়া এখানে অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া, এই সরকারের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে।   

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভিক্টিম কার্ড’-এর রাজনীতি করেন'। ভোট এলেই কখনও পা ভেঙে যায়, কখনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভোটের সময়ই কোনও না কোনও শারীরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন তিনি। তবে এবারের ভোটে এই কৌশল কাজ করবে না, জানালেন অমিত শাহ।  

অনুপ্রবেশ নিয়েও কটাক্ষ করেন শাহ। বলেন, 'এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতার সরকার কি ঘুমোচ্ছে? উনি প্রশ্ন করেন, বিএসএফ কী করছে? বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে বেড়া লাগাতে অনুমতি দেবেন।' তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ে সমস্যা সমাধান করে দেবে।