কলকাতা : স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ ভোটদান হল এবারের বিধানসভা নির্বাচনে। ভোট পড়ল ৯২.৩৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। মুর্শিদাবাদের ৬টি সহ ১০টি বিধানসভা আসনে ভোট পড়ল ৯৬ শতাংশ বা তার বেশি। প্রথম দফা ভোটের পরই রাজ্যে ভাল ফলের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ( Amit Shah )। দ্বিতীয় দফা ভোট পর্যন্ত এই রাজ্যেই থাকছেন তিনি। তবে প্রথম দফা কাটতে না কাটতেই তাঁর গলায় প্রত্যয়ী স্বর। শুক্রবার  নিউটাউনে সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ফল নিয়ে বড় দাবি করে বসলেন তিনি। বললেন, প্রথম দফার ভোটেই রাজ্যের মানুষের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং তাতে বিজেপির পক্ষে শক্তিশালী সমর্থনের ইঙ্গিত মিলছে।

Continues below advertisement

প্রথম দফাতেই এগিয়ে বিজেপি, দাবি শাহর

অমিত শাহ বলেন, তাঁদের কাছে যে ফিডব্যাক এসেছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা প্রথম দফাতেই নিজেদের ভবিষ্যৎ ঠিক করে ফেলেছেন। তিনি দাবি করেন, ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১০টিরও বেশি আসনে জিততে চলেছে। তাঁর মতে, এই ফলাফলই প্রমাণ করে যে রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।

Continues below advertisement

মোদির উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হতে চায় বাংলা

শাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নয়নের যে ধারা চলছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষও তার অংশ হতে চাইছেন। প্রথম দফায়  ভোটাররা সেই মতই প্রকাশ করেছেন ইভিএম-এ। এর আগেও বলেছেন, এবারও বললেন, রাজ্যে “ভয় যেতে চলেছে, ভরসা আসতে চলেছে”। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের শাসনের পর পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছেন এবং বিজেপির প্রতি আস্থা বাড়ছে এ রাজ্যের মানুষের।

দ্বিতীয় দফা মিলিয়েই সরকার গঠনের আশা

শাহর দাবি, প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফার ভোট মিলিয়ে  বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে য  তিনি বলেন, দলের সংগঠন এবং জনসমর্থনের উপর ভিত্তি করেই তিনি এ কথা বলছেন।  অমিত শাহ  বলেন, আগামী ৪ মে ফলপ্রকাশ। তার পরে  “অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ”—এই তিন অঞ্চলে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর কথায়, “পদ্মের শাসন” বিস্তৃত হবে দেশের পূর্বভাগ জুড়ে।

এই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির প্রতিক্রিয়া, অনেক জেলায় তৃণমূলের খাতা পর্যন্ত খুলবে না। আপনারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন ৪ মে শুধু ফলপ্রকাশ হবে না, পরিবর্তন হবে। 

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা

অমিত শাহের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করে শাহর দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, '১৫২টির মধ্য়ে ১৩২ থেকে ১৩৫টি তৃণমূল জিতছে। নন্দীগ্রাম-সহ ১৩২ থেকে ১৩৫টি বিজেপি হারতে চলেছে আজ।'  

এখন দেখার কার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়।