নয়াদিল্লি: মধ্যরাতের পর জমা পড়ে ১৭ লক্ষ ভোট। তাও আবার মাত্র ৪ সেকেন্ডের মধ্যে। ২০২৪ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে এবার মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় বিজেপি এবং চন্দ্রবাবু নায়ডুর TDP জোট। ১৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৪টিতই জয়ী হয় তারা। (Andhra Pradesh Election Allegations)
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী তথা অর্থনীতিবিদ পরাকল প্রভাকর এই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর প্রায় ১৭ লক্ষ ভোট পড়ে, তাও আবার মাত্র ৪ সেকেন্ডের মধ্যে। রাত ২টো পর্যন্ত ৩৫০০ বুথে ভোট পড়তেই থাকে। মোট ভোটের ৪.১৭ শতাংশ পড়ে রাত ১১টা বেজে ৪৫ মিনিট থেকে ২টোর মধ্যেই। (Andhra Poll Discrapancy Allegations)
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে অন্ধ্রপ্রদেশের নির্বাচনে অনিয়মের পরিসংখ্যান পেশ করে ‘ভারত জোড়ো অভিযান’। প্রভাকরের পাশাপাশি যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণের মতো বর্ষীয়ান আইনজীবী সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
প্রভাকর জানান, অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের তথ্য খুঁটিয়ে দেখে বেশ কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। রাত ৮টা থেকে ২টোর মধ্যে ৫২ লক্ষ ভোট পড়ে। মধ্যরাতের পর ভোট পড়ে ১৭ লক্ষ। মধ্যরাতের পর প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়ে। রাত ৮টার পরই ভোটবাক্সে অস্বাভাবিক রকমের পরিবর্তন ঘটে বলে দাবি প্রভাকরের। তাঁর কথায়, “EVM রিসেট করতে যদি ১৪ সেকেন্ড লাগে, প্রতি ৬ সেকেন্ড অন্তর ভোট পড়ছিল কী করে? ওইটুকু সময়ের মধ্যে ভোট দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন কি কোনও ভোটার?”
অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যাবর্তন ঘটে চন্দ্রবাবুর। তাঁর দল TDP ১৩৫টি আসনে জয়ী হয়। বিজেপি পায় ৮টি আসন। পবন কল্যাণের জন সেনা ২১টি আসনে জয়ী হয়। তবে এই প্রথম নয়, অন্ধ্রপ্রদেশে কত শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন, কমিশনের সেই তথ্যের সঙ্গে ভোটের হিসেব মিলছে না বলে গোড়া থেকেই অভিযোগ তুলে আসছিলেন বিরোধীরা।
২০২৪ সালের ১৩ মে নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছিলেন, ৬৮য়০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু রাত ৮টায় সেই হার বেড়ে হয় ৬৮য়১২ শতাংশ। রাত ১১টা বেজে ৪৫ মিনিটে ফের হার সংশোধন করে কমিশন জানায়, ৭৬.৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। চার দিন পর যখন চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়, দেখা যায় ৮১. ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে গরমিল নিয়ে সরব হতে দু’বছর সময় লাগল কেন, নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই প্রশ্ন তোলা হয় বলে জানিয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
তবে অন্ধ্রপ্রদেশ নির্বাচন নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। প্রশান্ত ভূষণের অভিযোগ, গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াই অস্বচ্ছ। এখনও পর্যন্ত কেন ফর্ম ১৭সি প্রকাশ করা হল না, প্রশ্ন তোলেন তিনি, যার মাধ্যমে প্রত্যেক বুথের হিসেব পাওয়া সম্ভব। কম্পিউটার বা ডিজিটাল মাধ্যমে হিসেব করা যায় যাতে, সেভাবে কেন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হল না, তাও জানতে চান। এর আগে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীও ওই প্রশ্নে সরব হয়েছিলেন।
প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি অন্ধ্র নির্বাচনের সমস্ত রেকর্ডের অডিট দাবি করেছেন। ফর্ম ১৭সি এবং ২০-র তথ্যও প্রকাশ করতে হবে বলে দাবি তুলেছেন তিনি। ফর্ম ২০ হল চূড়ান্ত ফলাফলের নথি, গণনার পর যা রিটার্নিং অফিসার তৈরি করেন।
