সমীরণ পাল, নোয়াপাড়া: রাত পোহালেই বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। তার আগে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরছেন বিজেপি-র রাজ্য নেতৃত্ব। মন্দিরে পুজো দিতে গেলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহও। এবারে নোয়াপাড়া থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। নিজের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অর্জুন। সেই সঙ্গে রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে বলেও আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ল তাঁর গলায়। (Arjun Singh)

Continues below advertisement

রাত পোহালে কী ঘটবে, এখন থেকেই সেই নিয়ে পারদ চড়ছে। সেই আবহেই মন্দিরে মন্দিরে ঘুরছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি-র কার্যালয়ের সামনে পুজো দেন অর্জুনও। সেখানে পুজো দেন তিনি। প্রার্থনা সারেন। সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করলে অর্জুন বলেন, "বিজেপি সরকার গড়েই ফেলেছে। খালি কাগজে কলমে বাকি।" (West Bengal BJP News)

আরও পড়ুন: ‘EVM-এ ৭০% চার্জ থাকলে বুঝতে হবে…’ তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের সতর্ক করলেন অভিষেক, কত আসন পাবে দল? বললেন…

Continues below advertisement

বার বার দলবদল নিয়ে অর্জুনকে কটাক্ষ শুনতে হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে, ফের বিজেপি-তে ফেরা নিয়েও কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে। অর্জুনের দাবি, তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত এবার। জোড়াফুল শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেন, "আগে দেখতেন না, তৃণমূলের নেতারা বাড়িতে বসে থাকত। এখন তারা রাস্তায় এসে বসছে। ওরা বুঝে গিয়েছে, মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আর থাকবে না তারা। মানুষ বিজেপি-কেই ভোট দিয়েছে।"

অর্জুন আরও বলেন, "ডিজে-র লাইন কেটে দিয়েছি আমরা। আমরা উন্নয়নকে রাস্তায় নিয়ে আসব আর গুড়-বাতাসায় খাওয়ানোয় বিশ্বাসী নই। ডিজে-র তার তো বাংলার মানুষ কেটে দিয়েছেন! পশ্চিমবঙ্গেও এমনিও ডিজে অ্যালাও নয়।" এতে তৃণমূলের শান্তনু সেন বলেন, "অন্য় রাজ্যে বিজেপি কত উন্নয়ন করেছে গোটা দেশের মানুষ দেখেছেন। বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখে, ৯১ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, বাংলাদেশী বলে দেশছাড়া করার হুমকি, কমিশন সহ সবকিছু কাজে লাগিয়েও যখন বুঝতে পারছে, তৃণমূলের সরকার গঠন সময়ের অপেক্ষা, সেই সময় অর্বাচীনের মতো কথা বলছে। ব্যারাকপুরে এবার খাতা খুলতে পারবে না বিজেপি। কাল ফের সবুজ ঝড় উঠবে বাংলায়।"

আরও পড়ুন: ভোটগণনার দিন গন্ডগোল হতে পারে? বলছেন দিলীপ ঘোষ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে

ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগে রবিবার সকাল থেকেই মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিচ্ছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। সকালে শিলিগুড়ি রথখোলা, রবীন্দ্রনগরের মা মনস্কা কালী মন্দিরে পুজো দেন শঙ্কর ঘোষ। দুর্গাপুরের ৩৬ নং ওয়ার্ডের মায়াবাজার শিব মন্দির এবং  ৩৬ নং ওয়ার্ডের গোপাল মাঠ শিবশক্তি ধামে পুজো দেন লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই। দল যাতে বিজয়ী হয়, তার জন্য পুজো দেন তিনি। দুর্গাপুরের মুচিপাড়া আরা শিবতলা মন্দিরে পূজো দিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। 

অন্য দিকে, দলীয় নির্দেশ মেনে আজ এগরার বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী  এবং দক্ষিণ কাঁথির বিজেপি প্রার্থী অরূপ দাস পুজো দেন কাঁথির ভবতারিণী মন্দির-সহ বাবা সিদ্ধেশ্বর মন্দিরে।  দিব্যেন্দু দাবি করেন, রাজ্যে ১৭০ থেকে ১৮০ সিট নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। এদিন নিজের বিধানসবভার বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেন অগ্নিমিত্রা পাল।