কলকাতা : একের পর এক হার তৃণমূলের হেভিওয়েটদের। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে হারলেন অরূপ বিশ্বাস। ৬০১৩ ভোটে জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপির পাপিয়া অধিকারী। দীর্ঘ ২০ বছর পরে টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ঘটল পালাবদল।

Continues below advertisement

২০০৬ সালে প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক পদ পেয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এই নির্বাচনের ফল সে সব হিসেবনিকেশ বদলে দেবে কেউ ভাবতে পারেনি। শুরু থেকেই চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। একবার পাপিয়া এগিয়ে থাকলেও, আবার কিছুটা এগিয়েছিলেন অরূপ। কিন্তু পঞ্চম রাউন্ডের গণনার পর থেকে উল্টে যায় হিসাব। টালিগঞ্জ ফিল্ম পাড়ার নক্ষত্রদের ‘সবচেয়ে কাছের’ নেতা ভোটের অঙ্কে পিছোতে শুরু করেন। শেষ হাঁসি হাঁসলেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী।                  

২০২৫ সালের শেষ থেকেই সময়টা ভাল যাচ্ছে না অরূপ বিশ্বাসের। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব ও ক্রীড়া, বিদ্যুৎ এবং আবাসনমন্ত্রী ছিলেন তিনি। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে মেসি-কাণ্ডের পর থেকে বদলে যায় অনেক কিছু। মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেন অরূপ। এবারও ভাগ্য সায় দিল না। বিপুল ভোটে হেরে গেলেন তিনি।                           

Continues below advertisement

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিপুল ভোটে হারালেন বিরোধী দলনেতা। ১৫,১১৪ ভোটে হলেন তৃণমূল। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম থেকেই নজরে ছিল ভবানীপুর কেন্দ্র। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভবানীপুরের পাশাপাশি, নন্দীগ্রামেও ৯০০০ - এর বেশি ভোটে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পরাজিত তৃণমূলের পবিত্র কর।             

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট হয়েছে ২ দফায়। গত ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণা করে ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। আর নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট মেনে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন হয় পশ্চিমবঙ্গে। সেই দফায় ১৬ জেলার ১৫২ কেন্দ্রে হয় ভোট গ্রহণ। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন প্রায় ৩ কোটি ৬১ লক্ষ মানুষ। দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হয় ২৯ এপ্রিল, বুধবার। সেই দফায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২ কেন্দ্রের ভোটার। অবশেষে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ।