রায়দিঘি : প্রথম দফার ভোটের কয়েকদিন আগে হুঁশিয়ারি-পাল্টা হুঁশিয়ারির মাত্রা আরও চড়ছে। শাসক-বিরোধী উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নিশানা শানিয়ে চলেছে। এবার রায়দিঘির সভা থেকে সুর চড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। আমি অত উদার নই। যারা আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে, বাংলার ক্ষমতা কী ৪ তারিখের পর বোঝাব।"

Continues below advertisement

এদিন রায়দিঘির খাড়ী গুণসিন্ধু গার্লস স্কুলের পাশের ময়দানের জনসভা থেকে আগাগোড়া বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান অভিষেক। তিনি বলেন, "৪ তারিখ ফল ঘোষণা হবে, তারপর সব হাওয়া। বিজেপির নেতা...আমি শুনেছি ৭ কোটি টাকা দিয়ে নিজের বাড়ি বানিয়েছেন। ভিতরে স্যুইমিং পুল আর গরিব মানুষের টাকা বন্ধ। আমি শুনেছি। কতদূর সত্যি মিথ্যা জানি না। তিনি টাকা খেয়ে এখানে পেট্রোল পাম্প করেছেন। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত থেকে লোকেদের এনে পেট্রোল পাম্পের পাশে একটা বাড়ি রয়েছে, সেখানে রেখেছেন। আরে আমার নজরে সব আছে। টোটো চুরি তো ২০১৮-২০১৯ সালে। ৫ হাজার, ৬ হাজার টাকা করে নিয়েছিল, টোটো দেব বলে। কোটি কোটি টাকা তুলেছে। ওই যে বললাম, চুরি করে আগে কী হত ? আগে একটা লোক চুরি করলে জেলে যেত। এখন চুরি করে লোকে বিজেপিতে যায়। আগে দুনম্বরি করে জেলে যেত, এখন দুনম্বরি করে বিজেপিতে যায়। সব খুন মাফ । ওয়াশিং মেশিন। কিন্তু, আমি কথা দিচ্ছি, এদের সব হিসাব হবে।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। আমি অত উদার নই। যারা আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে,বাংলার ক্ষমতা কী ৪ তারিখের পর বোঝাব।"

এরপরই কর্মসংস্থান ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, "বিজেপি বলছে, মোদির গ্যারান্টি। ১৫ লক্ষ টাকা পেয়েছেন কেউ ? বিজেপির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়াব়্যান্টি। জিরো। রাজভোগ। বলেছিল, বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি হবে। আপনি দেখাতে পারবেন রায়দিঘিতে ৫০ জন যুবক-যুবতীর হাতে নরেন্দ্র মোদির সরকার, কর্মসংস্থানের নিয়োগপত্র তুলেছে ? এখানে অনেক যুবসমাজের প্রতিনিধিকে দেখতে পাচ্ছি। যারা বলে বাংলায় কর্মসংস্থান নেই, বিজেপির অধীনস্থ কৃষি দফতরের অধীনে থাকা নাবার্ড বলেছে, গত ১৫ বছরে বাংলায় ছোট-বড়-মাঝারি ক্ষুদ্র শিল্প অর্থাৎ MSME-তে ১ কোটি ১২ লক্ষর বেশি চাকরি মা-মাটি মানুষের সরকার দিয়েছে। আপনাদের ক্ষমতা হলে আমার সঙ্গে আসুন প্রতিযোগিতা করতে যে, আমাদের রাজ্যে কত চাকরি হয়েছে আর আপনাদের কেন্দ্রীয় সরকার কত চাকরি দিয়েছে ।"

Continues below advertisement