সোমনাথ দাস, রঞ্জিত হালদার, ঋত্বিক প্রধান : গড়বেতায় সিপিএম প্রার্থী করল তপন ঘোষকে। ২৫ বছর আগে ছোট আঙারিয়াকাণ্ডে নাম জড়ানো এই তপন ঘোষকে প্রার্থী করা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অন্যদিকে, গতকাল ভাঙড়ে সওকত মোল্লার প্রচারের সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে চোর স্লোগান দিতে দেখা গেল আইএসএফ কর্মীদের। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
সোমবার তৃতীয় দফায় ১৫ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। সেই তালিকায় চমক গড়বেতা কেন্দ্রে। বিধানসভা ভোটে এই আসনে বামেদের প্রার্থী তপন ঘোষ। ২০০১ সালের ছোট আঙারিয়াকাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল সিপিএম নেতা তপন ঘোষ ও সুকুর আলির। তদন্ত যায় সিবিআইয়ের হাতে। কিন্তু মূল সাক্ষী বক্তার-সহ অন্যরা আদালতে ‘উল্টো’ সাক্ষ্য দেওয়ায় ২০০৯ সালে মামলা কার্যত ঠান্ডা ঘরে চলে যায়। বেকসুর খালাস হয়ে যান তপন ঘোষ, সুকুর আলি সহ অভিযুক্ত আট সিপিএম নেতা। সেই তপন ঘোষকে গড়বেতায় প্রার্থী করা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
এ প্রসঙ্গে গড়বেতায় তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য শান্তনু দে বলেন, "গড়বেতার ইতিহাসে এই নামটার একটা অন্য মানে আছে। তপন ঘোষ নামটার সঙ্গেই তো অত্যাচার, সন্ত্রাস লুকিয়ে আছে। মানুষ তো এই স্মৃতিটা ভুলে যায়নি এখনও। আমরা নির্বাচনে সিপিএমকে কোনও প্রতিপক্ষে হিসাবেই ভাবছি না।"
অন্যদিকে, বিজেপির গড়বেতা ব্লক সভাপতি সৌমেন সুকুরের বক্তব্য, "এই গড়বেতা কেন্দ্রে বিজেপি নিশ্চিতভাবে জিতবে।"
যদিও বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নিজের জয় নিয়ে আশাবাদী সিপিএম প্রার্থী। তপন ঘোষ বলেন, "আগে তৃণমূল-বিজেপি একসঙ্গে ছিল গড়বেতায়। ওরা জানে ওরা যে অভিযোগ করেছিল মিথ্যা। যে অভিযোগ করেছিল সেই অভিযোগ করেছিল প্রধান দু'টো কেস আমি-সুকুর আলি, আমরা দু'জনে বেকসুর খালাস হয়ে গেছি। এটা আমাদের লাল দুর্গ। গায়ের জোরে এরা দখল করেছে। প্রকৃত ভোট হলে আমরা জিতব।"
গড়বেতায় সিপিএমের প্রার্থী নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন ভাঙড়ের নলমুড়িতে তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে 'চোর' স্লোগান দিতে দেখা গেল ISF কর্মীদের। বড়ালিতে দলীয় প্রচারে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ওঠে চোর স্লোগান। ISF কর্মী রাহুল মোল্লা বলেন, "ওদের (তৃণমূলের) ছোট থেকে বড় নেতা পর্যন্ত বাথরুম থেকে শুরু করে ...চুরি করেছে বলে চোর স্লোগান দিয়েছে মানুষ।" তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সওকত মোল্লার কথায়, "এটা হচ্ছে এদের কালচার। যার যেটা কালচার সেটা বদলানো যাবে না। সবে শুরু হল। যত দিন যাবে তত তৃণমূল কংগ্রেস গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে।"
