নাটাবাড়ি : টিকিট না পেয়ে রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ২০১১ ও ২০১৬ সালে নাটাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হন। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরে তিনি বলেছেন, "ভাবতে পারিনি দল টিকিট দেবে না। তুফানগঞ্জ থেকে দলে টিকিট দেওয়ার কথা বলেছিল, আমি নাটাবাড়ি থেকে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। অবসর নেওয়ার জন্য এখনও ৫ থেকে ৭ বছর আছে। সম্মানের সঙ্গে অবসর নিতে চেয়েছিলাম। সেটা আর হল না।" আক্ষেপ কোচবিহারের তৃণমূল নেতার। এবিপি আনন্দর প্রতিনিধিকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দল আমাকে শেষে প্রস্তাব দিয়েছিল তুফানগঞ্জে দাঁড়াতে। আমি রাজি হইনি। কারণ, যে নাটাবাড়ির মানুষ, যাদের নিয়ে আমি এতগুলো বছর লড়াই করেছি, যারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন-পাশে ছিলেন, তাঁদের ছেড়ে আমি অন্যত্র যেতে রাজি হইনি।"
এবিপি আনন্দ : এই যে দল প্রার্থী করেনি, কতটা খারাপ লাগছে ?
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ : খারাপ লাগবেই। যেভাবে লড়াই করে মানুষের আশীর্বাদে টিকে ছিলাম, একটার পর একটা লড়াইয়ে জয়ীও হয়েছিলাম, তারপরে আশা তো করেইছিলাম নিশ্চয়ই একটা শেষ টিকিট পাব এবং সম্মানের সঙ্গে অবসরটা নেব। কিন্তু, সেটা আর আমার কপালে জুটল না।
এবিপি আনন্দ : যাকে প্রার্থী করেছে নাটাবাড়ি কেন্দ্রে, কতটা সম্ভব... জিততে পারবেন ?
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ : মানুষই বলবেন। ভবিষ্যই কথা বলবে এটা।
এবিপি আনন্দ : কোচবিহারে এখন রেজাল্ট কী হবে, ৯-০ বলছিলেন...
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ : দেখুন এখন নির্বাচন শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রার্থীপদ ঘোষণা হয়ে গেছে। এখনই বলার সময় আসেনি।
এবিপি আনন্দ : দলের প্রচার থাকবেন ?
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ : দেখা যাক। দল যদি চায়, তারপরে দেখা যাবে।
এদিকে ক্ষোভের আগুন বাড়ছে আমডাঙায়। দলের তিনবারের বিধায়ক রফিকুর রহমানকে তৃণমূল টিকিট না দেওয়ায় ক্ষোভ অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে আমডাঙা-কাকিনাড়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান রফিকুর অনুগামীরা। প্রধান, উপপ্রধান, কর্মাধ্যক্ষ-সহ রফিকুর অনুগামীদের অনেকেই ইস্তফার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নতুন প্রার্থীকে তাঁরা মানছেন না। তাই এই বিক্ষোভ বলে জানিয়েছেন। কাশিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেও জমায়েত-বিক্ষোভ দেখান বিধায়ক অনুগামীরা। বিক্ষুব্ধ এক রফিকুর অনুগামী বলেন, "আমাদের আমডাঙা থেকে ৩৭ হাজার ভোটে লোকসভায় লিড দিয়েছি। সেখানে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করছি, আমাদের বিধায়ক সাহেব রফিকুর রহমানকে পুনরায় চাইছি। আমাদের আমডাঙা কেন্দ্রে পুনরায় প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাইছি। কোনও বিহারগত প্রার্থীকে আমরা অ্যালাও করতে চাই না।"
