সোনারপুর : গতবার 'বাজিমাত' করেছিল 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'। যার 'ফসল' একের পর এক ভোটে তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার তার সঙ্গে জুড়েছে 'যুবসাথী।' নতুন এই প্রকল্পও তাদের ডিভিডেন্ট দেবে বলে মনে করছে রাজ্যের শাসক দল। তাই, কার্যত প্রতিটি সভা থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথী প্রকল্পের কথা তুলে ধরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তার অন্যথা হল না। সোনারপুরের স্পোর্টিং ইউনিয়ন ক্লাবের খেলার মাঠের জনসভা থেকে যুবসাথী নিয়ে বড় বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী।

Continues below advertisement

তিনি বলেন, "যুবসাথী করেছি। ভোটের আগেই করে দিয়েছি। ২৫ শতাংশ ডিএ দিয়েছি। আরও ৪ শতাংশ ডিএ পেয়ে যাবে। যেটা এপ্রিলে বাজেটে বলা আছে। আগামী দিনে আমরা…যুবসাথীদের বলছি, তাঁদের কর্মসংস্থান করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।" 

এরপর কর্মসংস্থান ইস্যুতে কেন্দ্রকে একহাত নেন। তিনি বলেন, "আমরা বাংলায় ২ কোটি লোককে চাকরি দিয়েছি...একটা রাজ্য। আর তোমরা ২৪ কোটি লোককে চাকরি দেব বলেছিল... ২ কোটি করে বছরে...একটা কাউকে দাওনি। একটা গ্যাংম্যানও নিয়োগ করতে পারোনি। লজ্জা থাকা উচিত। শুধু ভোটের সময় মিথ্যার ফুলঝুরি। কাল হেরে গিয়ে বাবুর খুব দুঃখ হয়েছে। আজ উনি ভাষণ দেবেন। কী ভাষণ দেবেন ? ওটা মিথ্যা। সামনে রেখেছেন মহিলা, আর পিছনে ছিল কয়লা। মহিলা বিল তো পৃথক বিল। মা-বোনদের সম্মান না করে, আপনাদের অসম্মান করছিল।"

Continues below advertisement

লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ কেন্দ্র। গতকাল বিরোধীরা একজোট হয়ে ভোট দেওয়ায় পাস হয়নি বিল। এই প্রসঙ্গ তুলে এদিন বিজেপি ও মোদিকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, "খুব বাড় বেড়েছিল বিজেপির। খুব ঔদ্ধত্য, অহঙ্কার। কাল হেরে গিয়ে বাবু আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ভাষণটা কী ? অপব্যবহার । দূরদর্শনটা কব্জায় নিয়ে নিয়েছে। আগে রাজীবজির আমলে একবার দেখালে বলতেন রাজীব-দর্শন। আর এখন ওটা মোদি-দর্শন হয়ে গেছে। স্কুলে স্কুলে বক্তৃতা দেন, জানেন আপনারা ? বাচ্চাদের ভাষণ শোনান। ওদের মগজ-ধোলাই করেন। যা আমি জীবনে শুনিনি। ইতিহাস বদলে দিচ্ছে, ভূগোল বদলে দিচ্ছে, সংবিধান বদলে দিচ্ছে। গান্ধীজিকে বর্জন করছে।"

প্রসঙ্গত, লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ-সহ বিল পাস করাতে পারেনি কেন্দ্র। সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস করানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল কেন্দ্রের। কিন্তু, সেই সংখ্যক ভোট তারা পায়নি।