পিংলা : কার্যত প্রতিটি জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পিংলার কাঁচডিহা স্ট্যাক ইয়ার্ড মাঠের জনসভা থেকেও সরব হলেন তিনি। তুললেন একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
তৃণমূলনেত্রী বলেন, "আইসি থেকে ওসি থেকে শুরু করে, যত অফিসার আছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ এজেন্টদের আগে থেকে গ্রেফতার করে নাও। কেন ? তাঁরা যাতে বুথ কেন্দ্রে বসতে না পারেন। আরে প্যারালাল মেশিনারি তৈরি রাখতে হবে। একজনকে গ্রেফতার করলে আরেকজন। মা-বোনদের এজেন্ট থাকবে। লড়ে যাবে। এত সহজ নয়, বাংলাকে কাবু করা। দুই, কী বলছে ভাষার প্রয়োগ দেখুন...বলছে, গরমে পুড়ে যাবে। যদি জ্বলে যায় বার্নল রেখে দাও। বোরোলিন রেখে দাও। এই সমস্ত সার্কুলার ব্যবহার করা হয়েছে। আমি যখন বলছি, তখন আমি দায়িত্ব নিয়ে সার্কুলারটা দেখেছি বলেই বলছি। কাদের এত ভয় দেখাচ্ছেন ? কাদের এত চমকাচ্ছেন ? হিম্মত থাকলে সরাসরি মানুষের সঙ্গে লড়াই করুন। এত ভোট কেটেছেন কেন ? কারণ, বাংলার মানুষকে আপনারা ভয় পান। বিহারে তো লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ছিল না। কাল সুপ্রিম কোর্টও এটা বলেছে। তাহলে বাংলায় কেন ? তার কারণ, দিল্লি থেকে এসেছেন মোটা ভাই। সঙ্গে এসেছে ইডি-সিবিআই।" আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে মমতা বলেন, "এই লড়াইটা লড়তে গিয়ে যারা বলছে বার্নল দিয়ে পুড়িয়ে দেব, বার্নল রেখে দাও...তাদের বিরুদ্ধে বলুন তোমাদের বার্নল দেব না। তোমাদের আইসক্রিম দেব। যাতে গরমকালে তুমি আইসক্রিম খেয়ে তোমার শরীরটাকে আইস রাখতে পারো। বরফ রাখতে পারো। তোমাদের সঙ্গে আমাদের এটুকু তফাত।"
গতকালও নির্বাচন কমিশন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নাম না করে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। দুর্গাপুর পশ্চিমের চতুরঙ্গ ময়দানের জনসভা থেকে তিনি হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিলেন, "আমার সঙ্গে কথাও বলে না। এত সাহস ! আমি এখনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আছি।" তাঁর কথায়, "সব অফিসার বদলি। আমার আন্ডারে সব কেড়ে নিয়েছে। এটা সুপার এমার্জেন্সি করে দিয়েছে। ভ্যানিশ কুমার আর বিজেপি মিলে। বিজেপি যা বলছে, তা-ই তোতাপাখির বুলি ! একেবারে বেড়ে খেলছে। কেউ কেউ তো বেড়ে খেলছে। যেন মনে হচ্ছে, শুধু নিজেকে বাঁচানো, আর সংসার বাঁচানো। আর বিজেপির দালালি করা যাতে পরে ভবিষ্যতে কেউ কেউ কোনও পদ পেতে পারেন। দালালি করতে গিয়ে চিফ সেক্রেটারি বদলেছে বাংলার। মনে রাখবেন, আমার সঙ্গে কথাও বলে না। এত সাহস ! আমি এখনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আছি। হোম সেক্রেটারি বদলেছে। ডিজি বদলেছে, পুলিশ কমিশনারদের বদলেছে। ডিএমদের বদলেছে। বেছে বেছে বিজেপির লোক এনে বসিয়েছে।"
