কলকাতা : 'ওরা বাংলা রাজ্যটাকেই তুলে দিতে চায়।' কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ করেন দলনেত্রী। তার আগে একাধিক ইস্যুতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি।
মমতা বলেন, "বিজেপি সরকার যেদিন থেকে ক্ষমতায় এসেছে তার চক্রান্ত আমরা অনেক লক্ষ্য করেছি। কিন্তু, এবারের চক্রান্ত সমস্ত চক্রান্তকে ছাড়িয়ে গেছে। যেনতেন প্রকারে বাংলা দখল করে ওরা বাংলা রাজ্যটাকেই তুলে দিতে চায়। আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। প্ল্যান আছে, উত্তরবঙ্গটাকে টোটাল বাদ দিয়ে বিহারের কিছু অংশ নিয়ে আবার আর একটা নতুন রাজ্য তৈরি করা। নির্বাচন কমিশন হয়তো পরে বলবে। আমরা যেটা শুনেছি, এই ভোটের পরে আবার ডিলিমিটেশন করবে। ডিলিমিটেশন মানে হচ্ছে, আগামীবার মোদি সরকার জিতবে না। ক্ষমতায় আসবে না। কারণ, দেশের মানুষ ওদের পছন্দ করছে না। বাংলা তো নয়ই। তাই এক, ডি-লিমিটেশন। দুই, এনআরসি। তিন, সেন্সাসের নাম আরও মানুষের নাম বাদ দেওয়া। এটা ওদের পরিকল্পনা। দেশের মানুষকে সর্বহারা করে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত মোদি সরকার করছে।"
ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ বা অন্য কোনও অভিযোগ ছাড়াই ব্যাপকভাবে অফিসারদের বদলি করা হয়েছে। মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিতে আগেই অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। IPS থেকে IAS, আরও আমলাকে ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের আরও ৬ IAS-কে ভিনরাজ্যে পাঠাচ্ছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে এবার এই ইস্যুতে সরব হলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিলেন। আক্রমণ শানালেন মোদি-শাহর বিরুদ্ধে। তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, "দেখুন নির্বাচনের সময় কিছু অফিসার চেঞ্জ হয়। সেটা নিশ্চয়ই নির্বাচন কমিশন করতে পারে। তারও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী ? দুই হচ্ছে, যারা নির্বাচন সম্পর্কিত কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁদের কিছু কিছু ট্রান্সফার করা হয়। কিন্তু, এবার দেখছি...মানুষ খাদ্য পাবে কোথা থেকে ? রেশন ? বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ যেন আমাকে দোষ না দেয়। কারণ, আমি তো রেশন দিতে চাই। ফুড ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারিকে নিয়ে গেছে অবজার্ভার করে। কখনো দেখেছেন ? ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক চালায়। এরা কিন্তু নির্বাচন করে না। এরা সরকারের এক একটা কি অফিসার। পঞ্চায়েত ডিপার্টমেন্টের অফিসারকে বলছে অবজার্ভার হয়ে যেতে। রাস্তাঘাট দেখবে, গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করবে...ঝড়-জলে রাস্তা ভেঙে গেলে, ব্রিজ ভেঙে গেলে, দুর্যোগ হলে, ডিজাস্টার হলে PWD-র প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারির একটা বড় ভূমিকা থাকে। তাঁকেও অবজার্ভার করে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে। আমি শুনেছি আরও কয়েকটা ডিপার্টমেন্ট, যারা সেক্রেটারি-স্পেশাল সেক্রেটারি ...। দেখুন প্রতিবার যখন ভোট হয় আমাদের রাজ্য থেকে অনেক অবজার্ভার চায়। আমরা দিই যতটা পারি। কিন্তু যখন এই রাজ্যেই ভোট, তখন এই রাজ্যেই যদি সবাইকে নিয়ে চলে যাওয়া হয়, তাহলে ভিন রাজ্যের লোক কি বাংলাকে চেনেন ?"
