কাটোয়া : হাতে আর কয়েকটা দিন। তারপরেই প্রথম দফায় ভোট। তার আগে জোরদার নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল-বিজেপি-সহ সব রাজনৈতিক দল। আজ দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন কাটোয়ার সভায় যোগ দেন তিনি। দলীয় কর্মী-সমর্থকেদর উচ্ছ্বাসের মধ্যেই বক্তব্য রাখতে এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু, সভায় পুরোদস্তুর বক্তব্য রাখার আগে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছে '২ মিনিট' সময় চেয়ে নেন প্রধানমন্ত্রী। সবার তখন কৌতূহলী নজর। অবশ্য কী জন্য তিনি ২ মিনিট নিলেন তা নিজেই জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই ভোটে যারা প্রার্থী আছেন, তাঁরা একটু এগিয়ে আসুন। এখানে যারা বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন, তাঁরা একটু আগে এগিয়ে আসুন। আমি ২ মিনিট আমাদের সব প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করে আসছি। তারপর আবার সভা শুরু করব।" এদিন দলের ১৫ জন প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার নেমেছেন মোদি।
এদিন কাটোয়ার সভায় ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত মোদি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে যেখানে যেখানে গেছি, আগের সভার রেকর্ড আপনারা ভেঙে দেন। আপনাদের একটা সত্যি কথা বলব ? আমার অনুভব বলব আপনাদের ? আমার জীবন গুজরাতে কেটেছে। কিন্তু, গুজরাতে যদি আমাকে ১১টা-১২টার সময় কোনও সভা করতে হয়, তাহলে এরকম সভা করতে পারতাম না। আপনারা অবাক করে দিয়েছেন। আমি এখন হেলিপ্যাডে দেখছিলাম, সকাল সকাল এত ভিড়...আপনাদের সবার আশীর্বাদ দেওয়ার জন্য আসা...আপনাদের এই স্নেহ, ভালবাসা অভিভূত করে দেবে। বর্ধমানে এই হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ... বাংলায় খেলা করবে। এই দৃশ্য ৪-মের ফলাফলের ট্রেলার।"
এরপরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে নিশানা শানাতে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "মেদির গ্যারান্টি, তৃণমূলের নির্মম সরকারের ভয় হটিয়ে ভরসায় পরিবর্তন করা। দুর্নীতি ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শ্বেতপত্র জারি করবে বিজেপি। যাতে তৃণমূলের সব গুন্ডা, সব সিন্ডিকেট, সব দুর্নীতি-গ্রস্ত বিধায়ক-মন্ত্রী...এদের সবার আইনি প্রক্রিয়ায় পুরো হিসাব করা যায়। নির্মম সরকারের ১৫ বছরের পুরো হিসাব হবে। যারাই দাঙ্গা, রাজনৈতিক হিংসায় শামিল হচ্ছেন, তাঁদেরও সবকিছু খুঁজে বের করা হবে। বিজেপির আমলে ভয়-মুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা করা হবে। সিন্ডিকেটের জায়গায় সব কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া হবে। আপনারা দেখেছেন, বালি খাদানের জন্য তৃণমূলের লোকজন নিজেদের মধ্যে লড়াই করে। কাটোয়ায় যে বিস্ফোরণ হয়েছিল তার পিছনের খেলা কী ? সেটাও আপনারা সবাই ভাল করে জানেন। বিজেপি সরকারে সব অপরাধের বিচারের ব্যবস্থা করবে।"
