কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : প্রচারে জমজমাট ভবানীপুর। নির্বাচনের ভরকেন্দ্রে জরুরি বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে প্রচারে শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে রণকৌশল নিয়ে বিশেষ বৈঠকে শাসক দল। সুব্রত বক্সির অফিসে বৈঠকে ভবানীপুর কেন্দ্রের কাউন্সিলররা। এলাকায় কার কী দায়িত্ব, তা স্পষ্ট করা দেওয়া হবে আজকের বৈঠকে।

২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার ভবানীপুর কেন্দ্র হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন হচ্ছে। কারণ, এখানে একদিকে প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর শুভেন্দু আজ প্রচারে নেমে পড়েছেন। ঠিক, সেই সময় তৃণমূলের তরফে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সুব্রত বক্সির অফিসে ডাকা হয়েছে বৈঠক। সেখানে একদিকে যেমন দেওয়াল লিখন চলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, অন্যদিকে চলছে বৈঠক। সেই বৈঠকে ভবানীপুর এলাকার যে আটজন পুর প্রতিনিধি বা কাউন্সিলর আছেন তাঁদের, ভবানীপুর এলাকা যাঁরা দেখেন তাঁদের ডাকা হয়েছে, ফিরহাদ হামিকের উপস্থিত থাকার কথা। অন্যান্য কাউন্সিলরদের উপস্থিত থাকার কথা। ইতিমধ্যেই জয়প্রকাশ মজুমদার-সহ ভবানীপুর এলাকায় যারা সংগঠন দেখেন, তাঁরা উপস্থিত হয়েছেন। আজ এখানে রণনীতি ঠিক করা হবে। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু এখানের প্রার্থী, কিন্তু সবসময় তিনি দিতে পারবেন না। গোটা রাজ্য নিয়ে তাঁকে ব্যস্ত থাকবে হবে। স্বাভাবিকভাবে ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মতো ওজনদার প্রার্থীকে কীভাবে মোকাবিলা সম্ভব, কীভাবে তার মোকাবিলা করা হবে, যাবতীয় স্ট্র্যাটেজি আজ বৈঠকে ঠিক করা হবে।

ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলও-দের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন তাঁর বাড়িতে। এসআইআরে প্রচুর সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গেছে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে বহু বাঙালি-অবাঙালি মিশ্রিত এই ভবানীপুর কেন্দ্র...যে কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী বিধায়ক, সেই কেন্দ্রে এবার শুভেন্দু অধিকারীর মতো কেউ যেহেতু প্রার্থী হয়েছেন, সেক্ষেত্রে আজকের বৈঠক খুব তাৎপর্যপূর্ণ।

২৫ হাজার ভোটে ভবানীপুরে জিতবেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে প্রচার শুরুর দিনই ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। 'হিন্দু নববর্ষের দিন' পুজো দিয়ে শুরু করলেন প্রচার।  ভোটের কুরুক্ষেত্র ভবানীপুর প্রচারপর্ব শুরু থেকেই সরগরম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোমগ্রাউন্ডে এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে নেমেছেন শুভেন্দু । অধিকারীর প্রচার ঘিরে উৎসবের মেজাজে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, মিছিল করে চক্রবেড়িয়ায় পার্টি অফিসে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। লাড্ডু, রজনীগন্ধার মালায় বরণ করে নেওয়া হয় তাঁকে। মাঠে নামা থেকেই আত্মবিশ্বাস চরমে বিরোধী দলনেতার।