কলকাতা: ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে বিরাট ব্যবধানে জয়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। এবার মমতার নিজের গড় ভবানীপুরেও শুভেন্দুর জয়। ১৫,১১৪ ভোটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা। নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুর, দুটো কেন্দ্রেই জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বললেন, 'আমাকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরকে প্রনাম জানাই। আমাকে ভবানীপুরের মুসলমানরা ভোট দেয়নি। আমাকে জিতিয়েছে হিন্দুরা, শিখ সমাজ। আমার এই সিট জেতা প্রয়োজন ছিল। এই আসন হারলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হত না। ধন্যবাদ জানাব বিশ্বের লোকপ্রিয় নেতা নরেন্দ্র মোদিজিকে। আর কৃতজ্ঞতা জানাব আমার নেতা অমিত শাহজিকে। আমার এই জয়ের পেছনে রয়েছে তিনশো বিজেপি কর্মী ও হিন্দু যাঁরা শহিদ হয়েছেন। হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস সহ যাঁরা হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের এই জয় উৎসর্গ করলাম।'
এবারের বিধানসভা নির্বাচন থেকে দুটো কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। পাঁচ বছর পর ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূল সুপ্রিমোর নিজের গড়েও লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সঙ্গে নন্দীগ্রামে নিজের গড়েও দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর দুটো আসনেই বাজিমাত করলেন তিনি। ভবানীপুরে ২০ রাউন্ড গণনা শেষে ১৫,১১৪ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে ৯৯৬৫ ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র করকে হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। মুসলিম ভোট যে শুভেন্দু পাননি, তা নিজেও মেনে নিয়েছেন। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, 'নন্দীগ্রামে ৬৫ হাজারের মত মুসলিম ভোট রয়েছে। তাই সেই ভোটটা আমি পাইনি। তাই ওখানে বেশি মার্জিনে জিততে পারিনি। অন্যদিকে, ভবানীপুরে ৩৫ হাজার মুসলিম ভোটার ছিল। তাই এখানে ব্য়বধান বেশি ছিল আমার।'
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট যে এবার অন্যরকম হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই! শুরুতেই কড়া বার্তা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ফলে ঝাড়াই-বাছাইয়ের পরে তৈরি হয়েছিল স্বচ্ছ ভোটার তালিকা! গত ১৫ মার্চ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৫ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। একুশে আট দফায় ভোট হলেও, এবার মাত্র দু'দফায় ভোট হয় রাজ্যে! আর নজিরবিহীন ভাবে ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে আসে।
