কলকাতা : গত জানুয়ারি মাসে সিঙ্গুরে হাইভোল্টেজ সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সভা থেকে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেও, শিল্পের প্রসঙ্গ কার্যত এড়িয়েই গিয়েছিলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ফেরানো নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতিই সেদিন দেননি তিনি। শুধু বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, 'রাজ্যে আইনশৃঙ্খলায় পরিবর্তন ঘটলে তবেই বিনিয়োগ আসবে।' তাই মোদির সভা শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। সেই সিঙ্গুরই আজ আরও একবার চর্চায় উঠে এল। এদিন বিজেপির সঙ্কল্প-পত্র প্রকাশের অনুষ্ঠানে সিঙ্গুর নিয়ে সাংবাদিকদের তরফে অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সিঙ্গুর নিয়ে কোনও মাস্টার- প্ল্যান আছে ? উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগেই তিনি সিঙ্গুর প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। কিন্তু, কী বলেছেন তিনি ? এদিন বিজেপির ইস্তেহার 'ভরসার শপথ' হিসাবে শাহ বলেন, 'সিঙ্গুরে শিল্প পার্ক তৈরি হবে, ৫০ শতাংশ জমি ছোট শিল্পের জন্য থাকবে। ৫০ শতাংশ জমিতে বড় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।' West Bengal Election 2026

Continues below advertisement

সিঙ্গুরের ফেরত পাওয়া জমির একটা বড় অংশে এখন শুধুই কংক্রিটের অংশ। কোথাও ৭০ শতাংশ, তো কোথাও আবার ৯০ শতাংশ জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। একসময় শিল্প-সম্ভাবনার সিঙ্গুরের জমিতে এখন চড়ে বেড়ায় শিয়াল। সিঙ্গুর রাজ্য রাজনীতির পালাবদল ঘটিয়েছে ঠিকই, কিন্তু নিজেদের জীবন-যাত্রা কি পাল্টাতে পেরেছিল ? সিঙ্গুরের জন্য় অনেকের স্বপ্ন ভেঙেছে। কিন্তু সিঙ্গুরের স্বপ্ন কি বিকশিত হয়েছে ? আজ প্রায় দু'দশক পর এখনও উঁকি দেয় এই প্রশ্নগুলো।

প্রসঙ্গ...সিঙ্গুর

Continues below advertisement

সালটা ছিল ২০১৬, ৩১ অগাস্ট। এই সিঙ্গুরের জমি অধিগ্ৰহণকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছিল শীরষ আদালত। অধিগৃহীত জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সব্বোর্চ আদালত। সেইমতো জমি ফেরত দিয়েছে রাজ্য সরকার। কারখানার কাঠামো সরিয়ে...কংক্রিটের স্ল্যাব ভেঙে জমি চাষ যোগ্য করার চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। ৯৯৭ একর জমির মধ্যে মাত্র ৩০০ একরের কাছাকাছি জমি চাষযোগ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সম্প্রতি বলেছেন, ভেড়ি ও বাজেমেলিয়া মৌজায় প্রায় ১০০ শাতংশ জমিই কার্যত চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। গোপালনগর মৌজায় প্রায় ৭০ শতাংশ জমি চাষের অযোগ্য। খাসের ভেড়িতে প্রায় ৯০ শতাংশ জমিতে আর হবে না চাষাবাদ। আর বেড়াবেড়ি অঞ্চলেও ৪০ শতাংশ জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে।