বিটন চক্রবর্তী, পূর্ব মেদিনীপুর: পরপর দুইবার, ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন। সেই শুভেন্দু অধিকারীই এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই নন্দীগ্রামে এসে একগুচ্ছ আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তাঁর থেকে প্রত্যাশাও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে নন্দীগ্রামবাসীর। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, এখন দিন বদলের স্বপ্ন কবে বাস্তব রূপ নেয়, সেটাই দেখার। ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই নন্দীগ্রামে এসে একগুচ্ছ আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি, দিন বদলের স্বপ্ন এখন বাস্তব রূপ নেয় কবে, সেদিকেই তাকিয়ে নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রামে  একগুচ্ছ আশ্বাস শুভেন্দুর, বাস্তব রূপ নেবে কবে ? তাঁকিয়ে বাসিন্দারা।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, “RG কর মুভমেন্টের সময়, মমতার সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য, অভিষেকের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র হয়েছিল..”, বিস্ফোরক তৃণমূলের সাসপেন্ডেড মুখপাত্র

Continues below advertisement

হলদিয়ার বাসিন্দা শেখ সুলেমান বলেন, আমার এলাকার দাদা মুখ্যমন্ত্রী।  কথা দিয়ে কথা রাখেন(শুভেন্দু অধিকারী), তারপরে কাজকর্ম। যেটা বলেন সেটাই করেন(শুভেন্দু অধিকারী)। হলদিয়ার বাসিন্দা  অমিতকুমার খাঁড়া বলেন, পুরো ১০০-তে ১০০ শতাংশ। ব্রিজ(হলদিয়া-নন্দীগ্রাম) হবেই। ব্রিজ(হলদিয়া-নন্দীগ্রাম) হলে মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হবে। নন্দীগ্রাম, আর শুভেন্দু অধিকারী, সেই ২০০৭ সাল থেকেই দু'টো নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যা আরও গাঢ় হয় ২০২১-এ নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের পর, সেই ধারা বজায় থেকেছে ২০২৬-এও। পরপর দুই বার, শুভেন্দু অধিকারীকে ঢেলে ভোট দিয়েছে নন্দীগ্রাম। সেই শুভেন্দু অধিকারীই এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই তাঁর থেকে প্রত্যাশাও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে নন্দীগ্রামবাসীর।

নন্দীগ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, নন্দীগ্রামের জেলার ছেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, এটা তো গর্বের বিষয়। + নতুন করে সূর্যের আলো আবার উদ্ভাসিত হবে। আশা পূরণ হবেই। বিশ্বাস। দীর্ঘ বিশ্বাস। শুভেন্দুবাবু আশা পূরণ করার লোক। ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই নন্দীগ্রামে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। দিয়েছেন অনেক আশ্বাস। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম জয়ী বিজেপি প্রার্থী  শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আরে বলেছি তো, হলদিয়া-নন্দীগ্রাম জুড়ে দেব ব্রিজ করে। মহিষাদল-তেরপেখ্যা-নন্দীগ্রাম জুড়ে দেব।  সোনাচূড়াতে ITI-টা ফিরিয়ে এনে করে দেব। নন্দীগ্রাম ১-এ যাতে দু'বার ধান করে দেবে, ব্যবস্থা করে দেব। এই হাসপাতালটাকে এমন বানাব যাতে রেফার না করতে হয়। এই হল সেই নন্দীগ্রাম ITI কলেজ। তৃণমূল সরকারের আমলে যার ঘোষণা হলেও, জমিজটের কারণে এখনও তা অথৈ জলে। প্রাচীর দেওয়ার কাজ হলেও কলেজ আর গড়ে ওঠেনি। নির্বাচিত হয়ে ওঠার পরের দিনই শুভেন্দু বলেছিলেন এইটা নতুন করে হবে। আর এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন পড়ুয়ারা। নন্দীগ্রামের পড়ুয়া অনুরূপ পতি বলেন, নন্দীগ্রামের ছেলেরা অনেক দূরে কষ্ট করে টেকনিক্যাল কোর্সগুলো করতে যায়। সেক্ষেত্রে যদি আমাদের ওই ITI-টা চালু হয়, তাহলে আমাদের নন্দীগ্রামের যারা পড়ুয়া, স্থানীয় পড়ুয়া, তাদের ক্ষেত্রে অনেকটা স্বস্তি হয়। আমাদের একটা ভরসা আছে শুভেন্দুবাবুর ওপরে। নন্দীগ্রামকে মেজো বোন বলতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন, এই নন্দীগ্রামকেই হলদিয়ার সঙ্গে জুড়তে হলদি নদীর ওপরে সেতু তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তারপর? হলদিয়ার বাসিন্দা   শেখ সুলেমান বলেন, ব্রিজ হলে অনেক মানুষের সুবিধা হবে। এখান থেকে অনেক মানুষ কাজকর্মে যায় সাইকেলে করে, বাইকে করে।  কথা দিয়ে কথা রাখে তারপরে কাজকর্ম। যেটা বলে সেটাই করে। নন্দীগ্রামের বেশিরভাগ জমি এক ফসলি। অর্থাৎ বছরে মাত্র একবারই সেখানে চাষ করা যায়। ভোটে জয়ী হয়ে, সেই কৃষি নিয়েও যে় বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, তাতে আস্থা রাখছেন নন্দীগ্রামে চাষিরা।নন্দীগ্রামের চাষি   অভিজিৎ মাইতি বলেন, এইসব জমি এক ফসলি চাষ হয় বছরে।  বছরে ২ বার যাতে চাষ করা যায়, সেরকম একটা ব্যবস্থা করে দিলে আমাদের ভাল হয়। দিন বদলের স্বপ্ন এখন বাস্তব রূপ নেয় কবে, সেদিকেই তাকিয়ে নন্দীগ্রাম।