কলকাতা : "রাজনীতি ছাড়া আন্দোলন করা অত্যন্ত টাফ ব্যাপার হয়ে গেছে। সেই কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বিজেপি জয়েন করব। সেইমতো দাদার সঙ্গে কথা হল।" বিজেপির রাজ্য সভাপতির সঙ্গে দেখা করার পর একথা জানিয়েছিলেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল। তাঁর ইচ্ছা-প্রকাশ নিয়ে কী ভাবছে বিজেপি ? তা জানালেন শমীক ভট্টাচার্য।

Continues below advertisement

শমীক বলেন, "কামদুনি আন্দোলন যখন তৈরি হয়েছিল, তখন নিঃসন্দেহে টুম্পা তার একটা মুখ ছিল। এই আন্দোলনের সঙ্গে বিজেপি ছিল। আমি বহুবার ওখানে গেছি। সকালে টুম্পা এসেছিলেন। উনি আমার পূর্ব-পরিচিত। বহুবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ওঁদের আন্দোলনের বিষয় নিয়ে। উনি আজ এসে বললেন তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আমাদের দলে যোগদান করতে চান। আমাদের তো যোগদান করব বললেই যোগদান করা যায় না। আমাদের একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। আমি দলকে জানাব। দল যদি রাজি থাকে তাহলে তাঁকে আমি পার্টিতে শামিল করে নেব।"

এর আগে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করে টুম্পা বলেছেন, "১২ বছর হয়ে গেছে। এখন আমি ভাবছি যে কোনও একটা রাজনীতির ছত্রছায়ায় এসে আন্দোলন করতে। কারণ, আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি এবং দেখেছি। রাজনীতি ছাড়া আন্দোলন করা অত্যন্ত টাফ ব্যাপার হয়ে গেছে। সেই কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বিজেপি জয়েন করব। সেইমতো দাদার সঙ্গে কথা হল। দু'-তিনদিনের মধ্যে জয়েন করার কথা হয়েছে। তারিখটা জানানো হবে। আমি চাই, রাজনীতির ছত্রছায়ায় এসে আন্দোলন করতে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ব্যক্তিগত দিক থেকে আমি অনেকটাই দেরি করে ফেলেছি। এবং পুরো শেষের মুখে। এখন জানি না কী করবে দল। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই সিদ্ধান্তই আমাকে মেনে নিতে হবে। কারণ, আমি তো অনেক শেষে এসেছি। সেটা দল যেটা মনে করবে সেই সিদ্ধান্ত হবে।" 

Continues below advertisement

এরপরই রাজ্য সরকার ও পুলিশকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, "আমরা দেখেছি, রাজ্য সরকারের পুলিশ রাজ্যেরই কথায় চলেছে। রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী যেভাবে ওদের নির্দেশ দিয়েছেন, ওরা সেভাবেই চলেছে। সেই ক্ষেত্রে রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী যেভাবে বলেছেন... রাজ্যের পুলিশরা সেভাবে আমাদের কাজ করেনি। সেইভাবে আমাদের নিরাপত্তা দেয়নি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম ২০১৩ থেকে। এখনও পর্যন্ত সেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাজ্য পুলিশের কথা আমাদের কিছু বলার নেই। কারণ, আমরা দেখেছি, যারা দোষী, যারা ধর্ষণকারী তাদের সাপোর্ট দিতে, তাদের সুরক্ষা দিতে। যারা প্রতিবাদী তাঁদের কখনো সুরক্ষা রাজ্যের পুলিশ দেয়নি।"