কলকাতা : তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত গিরিশ পার্ক। ইটের আঘাতে মাথা ফাটল বিজেপি কর্মীর। অন্যদিকে, মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি বিরুদ্ধে। যাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। দরজায় টানা ইটবৃষ্টি করা হয়, জানালা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। যদিও এনিয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

Continues below advertisement

ব্রিগেডগামী এক বিজেপি কর্মী বলেন, "সরাসরি ৩০ থেকে ৩৫ জন কার্যকর্তাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে এই পূজা পাঁজা-শশী পাঁজার বিশেষ সম্প্রদায়ের গুন্ডাবাহিনী। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেছে, ব্রিগেডে যা লোক হয়েছে নিশ্চিতভাবে পরিবর্তন। বুঝে গেছে জনতা। পুরো পরিবর্তন। আমাদের বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। একাধিক বাস ভাঙচুর করা হয়েছে, মাথা মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে। মুখ মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে আমরা প্রতিবাদ করছি। পূজা পাঁজা-শশী পাঁজার নেতৃত্বে হয়েছে। এটা অত্যন্ত ধিৎকার জানাই আমরা। মন্ত্রীর বাড়িতে কেউ ইট ছোড়েনি।" 

যদিও মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, "সমস্ত গুন্ডা-মাওয়ালিদের নিয়ে আজ সভা করছে। নয়ছয় করেছে। এরা গুন্ডাও নয়, এরা খুনি। যেভাবে আক্রমণ করছে এরা সাধারণ খুনি নয়। এরা খুন করতে পারে। দেখুন না। বিহার-ঝাড়খণ্ড কোথা থেকে নিয়ে আসছে। এরা বাংলাকে দখল করবে খুন করে। গণতন্ত্রের খুন। মানুষকে আহত করছেন। গণমাধ্যম দেখুক। গণমাধ্যম আর কত সমর্থন করবে ওদের ? এই করে ওরা মাথায় উঠে গেছে। সাহস দেখুন। আপনাদের ক্যামেরা চলছে, আপনাদের সামনে পুলিশকে আক্রমণ করা হয়েছে। এরা কারা ? এরা গুন্ডা।" মন্ত্রীর বাড়িতে হামলার সময় পুলিশ কোনওরকমে মন্ত্রীর বাড়ির দরজা বন্ধ করে রাখেন। সেই সময় এক পুলিশকর্মী আক্রান্ত হন। তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। ইট ছুঁড়ে মন্ত্রীর বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। 

Continues below advertisement

ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের তরফে ব়্যাফ বাহিনীকে নামানো হয় সেখানে। কিন্তু, বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, তাঁরা যখন নরেন্দ্র মোদির সভার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তখন ফ্লেক্স ছেঁড়া হয়। তৃণমূলের তরফেও অভিযোগ করা হয়, তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, শহরে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল সেগুলো কি ব্যবহার করা হল ? তার কারণ, আজ ব্রিগেডে দেশের প্রধানমন্ত্রী সভা করবেন। সেই বাহিনীর ব্যবহার কি আদৌ হয়েছে ? এর পাশাপাশি, পুলিশের সামনেই মুড়ি-মুড়কির মতো পাথর-পাল্টা পাথর পড়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাধিক মানুষ রক্তাক্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ সামনে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় পুলিশের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না বলে অনেকের দাবি। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ লাগোয়া গিরিশ পার্ক কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল।