সৌভিক মজুমদার, বিজেন্দ্র সিংহ ও সত্যজিৎ বৈদ্য, কলকাতা: IAS-IPS-দের বদলি সংক্রান্ত মামলায় আজ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, IAS এবং IPS-দের বদলির ফলে, আদৌ কি কোনও জনস্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে? সেটা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। বুধবার, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, SIR-এর প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কোন ওয়েবসাইটে দেখতে পাবেন ? নাম বাদ গেলে আবেদনের কোনও সুযোগ থাকছে কি ? রইল বিস্তারিত

Continues below advertisement

একের পর এক IAS-IPS বদলি নিয়ে যেদিন সংসদে সরব হল তৃণমূল। সেদিনই এই সংক্রান্ত মামলায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করল কলকাতা হাইকোর্ট।এটা একটা জনস্বার্থ মামলা।কিন্তু IAS এবং IPS-দের বদলির ফলে, আদৌ কি কোনও জনস্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে? সেটা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। IAS-IPS-দের বদলি নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় রাজ্য সরকারের উদ্দেশে সোমবার এই মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। রাজ্য সরকারের কাছে এদিন প্রধান বিচারপতি জানতে চান,বদলির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, কমিশন কি সেই আইনের বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করেছে? যদি করে থাকে তাহলে, কোন আইন লঙ্ঘন করেছে কমিশন? তখন রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, কমিশন ইচ্ছামতো কিছু করতে পারে না। আইনের সীমার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে।তখন বিচারপতি পার্থসারথি সেন জানতে চান, এই জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের নিজের অভিযোগ জানানোর জায়গা কোথায়? নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকার কীভাবে প্রভাবিত? তখন রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, এই মামলায় আমরা মামলাকারীকে সমর্থন করছি। তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই বদলির নির্দেশ স্থগিত করা হোক। 

রাজ্য সরকার নিজেই জনস্বার্থের কথা আদালতে বলতে পারে।কমিশন তো পারলে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে নিজের পছন্দমত কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করে দেবে। তখন রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, বদলির আড়ালে অফিসারদের এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, এখানে কেন্দ্রীয় সরকার পুরো রাজ্যটাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে এসেছে। তাদের সমস্ত বাহিনী যত কিছু আছে গোয়েন্দা দফতর থেকে শুরু করে সবাইকে কাজে লাগানো হয়েছে। সেটারই প্রতিধ্বনি আজকে আমাদের দলের নেতা ডেরেক'ও ব্রায়েন রাজ্যসভায় করলেন, যে বাংলায় অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। আমরা এটার জন্য ভারতবর্ষের মানুষের জনমত তৈরি করছি।  এর পাল্টা, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলেন, আমরা কখনই বলিনি যে, আমাদের হাতে অসীম ক্ষমতা আছে। আর আমরা এটাও বলিনি যে, আমরা সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চাই। আমরা আইনের মধ্যে থেকে কাজ করি। আমরা একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক সময়ে যে ৫টি রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, বা যেখানে হয়ে গেছে, কোথাও আমরা এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি। এখানে মামলাকারী নিজেই রাজ্য সরকারি আইনজীবী। এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নেই। শুধু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য জায়গাতেও বদলি হয়েছে। কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবের মধ্যে যে চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে সেগুলি মামলাকারী পেলেন কোথা থেকে? যে স্বরাষ্ট্র সচিবকে কমিশন নিযুক্ত করেছে, তিনি বিদায়ী স্বরাষ্ট্র সচিবের থেকে ৭ বছরের সিনিয়র। অফিসার বদল হলে কাজ থেমে যায় না। বুধবার, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে। বদলিতে লঙ্ঘিত জনস্বার্থ?