সৌভিক মজুমদার, কলকাতা : বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ও প্রশাসনের খোলনলচে বদলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখনও পর্যন্ত, সরানো হয়েছে ৪৬ জন IAS-IPS অফিসারকে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্য়ালেঞ্জ করে এবং আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিতে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। যেখানে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে--- ধরে নিতে হবে নির্বাচন কমিশন এই বদলিগুলো অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থেই করেছে।

Continues below advertisement

মুখ্য়সচিব থেকে BDO, DGP থেকে OC, DEO থেকে রিটার্নিং অফিসার। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের চেহারা বদলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখনও পর্যন্ত, সরানো হয়েছে ৪৬ জন IAS-IPS অফিসারকে। WBCS-ওসি-আইসি ধরলে তো সংখ্য়া আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বদলির সিদ্ধান্তকে চ্য়ালেঞ্জ করে এবং আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিতে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। কিন্তু সেই মামলা খারিজ করে, মঙ্গলবার হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, অফিসারদের খুব কম সময়ের জন্য বদলি করা হয়েছে, এটা কখনওই বলা যায় না যে, রাজ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিকল এবং অসাড় হয়ে পড়েছে। বদলির এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং সাধারণ মানুষ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, এমন কোনও বিষয়ই আবেদনকারী এই মামলায় তুলে ধরতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত IAS ও প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেন বলেন, "চিরাচরিত দেখেছি, আমিও যখন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ছিলাম এক-আধটা ট্রান্সফার চিরকালই করে যাতে ভোটটা নির্বিঘ্নে হয় এবং কোনও পক্ষের না হয়। এটা চিরকালই ছিল। ছোটখাট ট্রান্সফার, একটু ঝাঁকুনি দেওয়া এটা ছিল। কিন্তু, এই রেটে...এই যে মুখ্যসচিব ...অতীতে পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, সারা ভারতে এর নিদর্শন আছে কি না মনে পড়ে না। পুরো খোলনলচে পাল্টে দেওয়াটা নিসন্দেহে চিন্তা করায়। হয়তো কমপ্লিট মিস-ট্রাস্টের জায়গা তৈরি হয়ে গেছে বলে..।"

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট ঘোষণার রাতেই, প্রশাসনের শীর্ষ ২ কর্তাকে বদল করা হয়। মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন।  এরপর রাজ্য পুলিশের DG-র পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডে, DG আইনশৃঙ্খলা বিনীত গোয়েলকে এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দেয়। একাধিক IAS-কে ভিন রাজ্য়ে ভোটের পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়। ১৮ মার্চ সরিয়ে দেওয়া হয় ১১ জেলার জেলাশাসক ও কলকাতার ২ DEO-কে। জেলার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন 'District Election Officer' বা DEO. সাধারণত, জেলাশাসকরা এই দায়িত্ব পালন করেন। ব্য়াপক রদবদল হয় পুলিশের শীর্ষ স্তরেও। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ADG, একাধিক পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার, DC...DIG...বদল চলতেই থাকে। একদিনে বদলি করা হয়, ১২ জন পুলিশ সুপারকে। গত রবিবার, রাজ্য পুলিশের ১৪২টি থানার IC-কে সরিয়ে নতুন IC-দের নিয়োগের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, কলকাতারও ৩০টি থানার OC বদল করে কমিশন। গত ২৩ মার্চ, ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। 

মঙ্গলবার, অফিসার বদলি সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট জানায়, ধরে নিতে হবে নির্বাচন কমিশন এই বদলিগুলো অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থেই করেছে। প্রাক্তন পুলিশ কর্তা নজরুল ইসলাম বলছেন, "নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য ফেয়ার নির্বাচন করা। কিন্তু, আমাদের এরাজ্যের শাসকদলের লোকেরা ...একদম সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পদ পর্যন্ত অফিসারদের এমনভাবে পক্ষপাতদুষ্ট করে রেখেছেন...তাতে এখানে সুষ্ঠু এবং অবাধে নির্বাচন করে রাখা প্রায় অসম্ভব। এরকম লোকদের সরাতে হবেই এবং প্রতিটি বুথে ভোটাররা যাতে এসে তাঁদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেটা নিশ্চিন্ত করতে হবে।" প্রশাসনিক স্তরে ব্য়াপক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোট কি সুষ্ঠুভাবে করাতে পারবে তারা ?