কলকাতা : "আমরা তো হারিনি। হারলে পদত্যাগ করতাম।" রাজ্যে তৃণমূল ধরাসায়ী হওয়ার পরও, এমন আজব দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, পরিষ্কার বলে দিলেন, আমরা তো হারিনি যে রাজভবন যাব।  জোর করে দখল করে, যদি কেউ মনে করে যে আমাকে পদত্য়াগ করতে হবে না, সেটা নয়।   কিন্তু  এ কী করে সম্ভব? 'হারলে হার স্বীকার করে, রাজ্য়পালের পদত্য়াগ করতে হয়, এটাই তো নীতি-পদ্ধতি-নিয়ম-রেওয়াজ! হারের পর কি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের এসবের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে?' মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং। বিকাশ সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কোনও মুখ্যমন্ত্রী ‘Doctrine of Pleasure’-এর অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা অনেকাংশেই নির্ভর করে গভর্নরের আস্থার উপর—বিশেষত যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

Continues below advertisement

সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে কী হতে পারে?

তিনি বলেন, অতীতেও এমন বহু ঘটনা ঘটেছে যেখানে কোনও মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও পদত্যাগ করতে চাননি। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল হস্তক্ষেপ করে অন্য কোনও দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে, যদি কোনও সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগে অস্বীকার করেন, তাহলে রাজ্যপাল সংবিধান অনুযায়ী বৃহত্তম দলের নেতাকে ডেকে শপথ গ্রহণ করাতে পারেন।

Continues below advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির সুযোগ সীমিত

বিকাশ সিংয়ের মতে, এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর নতুন সরকার গঠনে আপত্তি জানানোর সাংবিধানিক অধিকার খুবই সীমিত। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—এ ধরনের মন্তব্য অনেক সময় রাজনৈতিক অবস্থান বা জনসমর্থন টানার কৌশল হিসেবেই দেখা হয়, সাংবিধানিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়।

ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের ভূমিকা

 সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং এটাও স্পষ্ট করেছেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে—যখন মুখ্যমন্ত্রীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকে—তখন রাজ্যপাল ‘Doctrine of Pleasure’ প্রয়োগ করতে পারেন না। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন।

নতুন সরকার গঠনের পথ

এই ধরনের অবস্থায়, রাজ্যপাল নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে পারেন। নতুন সরকার তখন সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রশাসন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।

রাজনৈতিক বনাম সাংবিধানিক বাস্তবতা

সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়লেও, আইনজ্ঞদের মতে বিষয়টি মূলত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই নির্ধারিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত ঠিক হবে কে রাজ্যের শাসনভার সামলাবেন। 

আরও পড়ুন: শেষ হয়েও হল না শেষ, পুনর্গণনা চলছে রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে, এখনও পর্যন্ত এগিয়ে তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায়