শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার : নির্বাচনের আগে বড় সাফল্য পুলিশের। ভোরবেলায় নাকা চেকিং চলাকালীন বড় সাফল্য পেল পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে রবিবার ভোর প্রায় ৪টা ১৫ মিনিট নাগাদ মেখলিগঞ্জ থানার অন্তর্গত চ্যাংড়াবান্ধাবাহা বাইপাস এলাকায় নাকা চেকিংয়ের সময়, একটি গাড়ি আটক করা হয়। গাড়িটি তল্লাশি করে পুলিশ ৬টি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন, মনিরুল ইসলাম এবং সামিম রহমান। কোথা থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্র কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি কোচবিহার জেলার ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

Continues below advertisement

কয়েকদিন আগে, দুর্গাপুরের বুদবুদ থানার মানকরে নাকা চেকিংয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ১০ লক্ষেরও বেশি টাকা। ২ ব্যক্তির থেকে উদ্ধার হয়েছে এই বিপুল পরিমাণ টাকা। এক জনের কাছে মিলেছে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। আরেকজনের থেকে কাছে মিলেছে ৮ লক্ষ টাকা। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে টাকা গোনার কাজ হয়। এত পরিমাণ টাকা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ। টাকা উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনকেও। ভোটের আবহে কেন এত টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। 

অন্যদিকে, শীতলকুচিতেও নাকা চেকিংয়ের সময় উদ্ধার বিপুল পরিমাণ নগদ। কোচবিহারের সিতাই-শীতলকুচি সীমান্তে নাকা চেকিং করছিল শীতলকুচি থানার পুলিশ, সেই সময়ে একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা নগদ করা হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, যথার্থ কারণ না দেখাতে পারায় বাজেয়াপ্ত করা হয় টাকা। ভোটের আগে এত টাকা উদ্ধার হওয়ায় স্বভাবতই উঠছে প্রচুর প্রশ্ন। কোথা থেকে আসছে এত টাকা, কোথায়ই বা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কোন কাজেই বা লাগবে এই বিপুল পরিমাণ টাকা? সন্দেহ বাড়ছেই। 

Continues below advertisement

এবার পশ্চিবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ২ দফায়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা। সেদিন ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় দফায় ভোট ২৯ এপ্রিল। সেদিন ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। আর ৪ মে হবে ভোটগণনা। পশ্চিমবঙ্গে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তাতেই ভোট করাতে চায় নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসেছে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিংয়ের জন্য ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কড়া তল্লাশি চালাচ্ছেন।