নির্বাচনের বাকি এক মাসেরও কম। আর এবার বিরাট এক প্রশ্ন চিহ্নের মুখে সিপিআইএম ও আইএসএফের মধ্যে জোট। কারণ আইএসএফের প্রার্থী হিসাবে আরাবুলকে পছন্দ নয় বাম নেতৃত্বের। ক্যানিং পূর্ব থেকে নির্বাচনে দাঁড় করানো হয়েছে এককালে তৃণমূলের 'তাজা নেতা' নামে খ্যাত আরাবুল ইসলামকে। আর সেটাই পছন্দ হয়নি সিপিএমের।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই আইএসএফ তাদের প্রার্থী তালিকার বেশ কিছুটা ঘোষণা করে দিয়েছে। আর সেই তালিকা অনুযায়ী ক্যানিং পূর্ব থেকে আইএসএফ প্রার্থী হয়েছেন আরাবুল ইসলাম। আর এইয়ে আরবুলকে নিয়েই আপত্তি জানিয়েছে সিপিআইএম।
যদিও সিপিএম বলছে, "কে কোন দল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন, সেটা অবশ্যই সেই দলের নিজেদের বিষয়।" কিন্তু আরাবুল ইসলামকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বা তাঁর আচার ব্যবহার নিয়ে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছিল। আর সেই কারণেই আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করলে সেটা সিপিএম একেবারেই মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছে। তবে শুধু সিপিএম নয়, তাদের বাম শরিকরাও আরাবুলকে প্রার্থী করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে।
এ ছাড়াও আরও একটা কারণও রয়েছে। মোট ৩৩ আসনে লড়ার ঘোষণা করেছিল আইএসএফ। আর ২৯ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল তারা। আর এর মধ্যে ৩টে এমন আসনও রয়েছে, সেখানে সিপিএমও তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছিল। এই ক্ষেত্রে প্রশ্ন একটাই, ওই ৩ আসনে আলোচনার পরও কেন প্রার্থী দিল আইএসএফ। আর এই নিয়েই তৈরি হয়েছে একটা জটিলতা। এই নিয়ে কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বিমান বসুর সঙ্গে আইএসএফ নেতৃত্ব একাধিকবার বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে বারে বারে সিপিএম নেতৃত্ব আইএসএফ নেতৃত্বকে জানিয়েছিল সিপিএম ইতিমধ্যেই যে যে আসনে প্রার্থী দিয়েছে, সেই আসন থেকে আইএসএফকে প্রার্থী প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়াও সিপিএম চেয়েছিল আজকের মধ্যেই এই সমস্ত বিষয়ে আলোচনা শেষ করতে। কিন্তু, এখনও সেই আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় মনে করা হচ্ছে জোট হয়তো শেষের পথেই। যদিও বিমান বসুর মতো বামে নেতার এখনও চাইছেন আলোচনার দরজা খুলে রাখতে, যাতে আইএসএফের সঙ্গে জোটের রাস্তা খোলা থাকে।
কিন্তু কী হতে চলেছে, সেটা হয়তো আগামিকালই বোঝা যাবে। কারণ আগামিকাল দুপুর ৩টের দিকে সাংবাদিক বৈঠকের কথা রয়েছে সিপিএমের। আর তখনই বোঝা যাবে এই জোটের আগামীর রূপরেখা কী হতে চলেছে।
