কলকাতা: প্রথম দফা ভোট যে প্রায় শেষ, এই কথা বলাই যায়। ঘড়িতে প্রায় ৮টা বাজতে যাচ্ছে। কয়েকটা জায়গায় এখনও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মানুষ। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচন বিভিন্ন দিক থেকেই নজির হয়ে রইল। হিসেব বলছে, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ১০ শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে! যে বছর বামফ্রন্টকে সরিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, অর্থাৎ ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৮২ শতাংশ। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮২ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৭৯%-এর বেশি। সুতরাং এই কথা বলাই যায়, এইবছর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের হার দেখলেই বোঝা যায়, এবার রেকর্ড সংখ্যক মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এরপরে, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট, সবার নজর এখন দ্বিতীয় দফার দিকেই।
রেকর্ড ভোট প্রথম দফায়!
SIR-এর পর প্রথম দফায় ভোট পড়ল রেকর্ড ৯১ শতাংশ! সঠিক অঙ্কটা তুলে ধরলে সেখানে দেখা যাচ্ছে, সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোটদানে অংশগ্রহণ করেছেন ৯১.৯৯ শতাংশ মানুষ। সন্ধে ৬টার পরে নির্বাচন কমিশন যে হিসেব দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, এই বছর রেকর্ড সংখ্যক মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন। নির্বাচনের আগে থেকেই অবশ্য এই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল যে এবার প্রচুর মানুষ ভোটে অংশগ্রহণ করতে চলেছেন। কেবলমাত্র ভোট দেওয়ার জন্য দলে দলে বাড়ি ফিরছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। হিসেব বলছে, সন্ধে ৬টার হিসেব অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ারে ৯০.৭৬ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। বাঁকুড়ায় সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন, ৯১.৫৩ শতাংশ মানুষ। বীরভূমে ভোট দিয়েছেন, ৯৩.৮৫ শতাংশ মানুষ। কোচবিহারে ভোট দিয়েছেন, ৯৪.৭১ শতাংশ মানুষ। সন্ধে ৬টা পর্যন্ত দক্ষিণ দিনাজপুরে ভোট দিয়েছেন, ৯৪.৯৫ শতাংশ মানুষ। তুলনায় দার্জিলিং-এর মানুষের ভোটদানের হার কম। সন্ধে ৬টা পর্যন্ত এখানে ভোট পড়েছে, ৮৮.১৮ শতাংশ। জলপাইগুড়িতে ভোট পড়েছে, ৯৩.৫৩ শতাংশ। ঝাড়গ্রামে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৯১.৯১ শতাংশ। কালিম্পং-এ সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ল, ৮২.৯৪ শতাংশ। এখানেই প্রথম দফার ভোটদানের হার সবচেয়ে কম। মালদায় সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ল, ৯২.৭৯ শতাংশ। মুর্শিদাবাদে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ল, ৯৩.০৫ শতাংশ। পশ্চিম বর্ধমানে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৮৯.৩৬ শতাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুরে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোটদান করলেন, ৯১.৮৯ শতাংশ মানুষ। পূর্ব মেদিনীপুরে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট দিলেন, ৯০.৪৮ শতাংশ মানুষ। পুরুলিয়ায় সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট দিলেন, ৮৯.৮৩ শতাংশ মানুষ। উত্তর দিনাজপুরে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোট দিলেন, ৯২.৬৮ শতাংশ মানুষ।
