কলকাতা: সদ্যই মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের ঘোষণা করেছে বিজেপি। দলের তরফ থেকে এই কার্ড শেয়ার করে ঘোষণা করা হয়েছে, প্রত্যেক মহিলাকে শর্তহীনভাবে মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে। তৃণমূল এর আগেই প্রশ্ন তুলেছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে, মহিলাদের যে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, তার মাপকাঠি কী হবে? তারপরেই স্মৃতি ইরানি 'মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড' বিলি করে যাবতীয় ধোঁয়াশা কাটিয়ে দিয়েছেন কালনায় মহিলা তাঁত শিল্পীদের কয়েকজনের হাতে, 'মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড' তুলে দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তবে ফের একবার চর্চায় চলে এল, সেই মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডই। 'মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড' বিলির সময়ে, বিজেপির মহিলা কর্মীদের ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠল, স্থানীয় প্রধানসহ ওই এলাকার তৃণমূল নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে।

Continues below advertisement

'মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড' বিলি করতে গিয়ে বিপত্তি?

শনিবার অর্থাৎ আজ, সানবাঁধা গ্রাম পঞ্চায়েতের চার্বাক পল্লীতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। পরে পরিস্থিতির খবর পেয়ে, ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে উপস্থিত হয়, নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ও! বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তাঁরা চার্বাক পল্লী এলাকায় যখন 'মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড' বিলি করছিলেন, ঠিক সেই সময় তৃণমূলের প্রধান-সহ কয়েক জন তাঁদের ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ শুরু করেন। এমনকি সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টার মতো মিথ্যে অভিযোগও করেন বলে জানিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।

Continues below advertisement

একে অপরের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তৃণমূল-বিজেপির?

অন্যদিকে, এই ঘটনায়, তৃণমূল নেতা সোমনাথ মণ্ডলের দাবি, গ্রামের মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে, বিজেপির লোকেরা তিন হাজার টাকা দেওয়ার নাম করে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের জেরক্স সংগ্রহ করছিলেন। তৃণমূলের তরফ থেকে সেটারই প্রতিবাদ করা হয়েছে মাত্র। নির্বাচনের আগে এই কাজ করা যায় না বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। পাশাপাশি এই ঘটনায় বিডিওর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে। পরে তাদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা কর্মীরা বাঁকুড়া শহরের কেরানীবাঁধে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে অবরোধস্থলে যান পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। কিছুক্ষণ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক মহিলা। আর তাই সব দলের টার্গেট মহিলা ভোটাররা। তৃণমূল থেকে বিজেপি, কংগ্রেস থেকে সিপিএম, সবাই চায় মহিলা ভোট। কিন্তু মূল লড়াইটা যেহেতু বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্য়ে। তাই দু পক্ষেরই হাতিয়ার মহিলা ভাতা।