ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা : এক সময় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তাঁর কণ্ঠস্বর শুনেছিল রাজ্য। যুবনেত্রী হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন রাজন্যা হালদার। তাঁর ২১-শের বক্তৃতা তখন ভাইরাল। সেই রাজন্যা হালদারই এবার ভোটের ময়দানে। তবে নির্দল প্রার্থী হিসেবে।
নির্দল হিসেবে সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোল দক্ষিণ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রাজন্য়া হালদার। বৃহস্পতিবার জনসংগ্রাম মঞ্চের তরফে বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানেই ২ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে রাজন্য়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর এদিন তৃণমূল এবং বিজেপি, ২ দলের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টের সময় কলকাতার প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠকে নিজের দলের নাম ঘোষণা করেন তিনি। এদিন রাজন্যা জানান, ২০২৬ এর ভোটে হয়ত তাঁরা বিন্দু বিন্দু করে সিন্ধু তৈরি করতে পারবেন না। সরকার বদলাতে পারবেন না। তবে হার কি জিত যাই হোর, লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরবেন না। রাজন্যা জানান, সোনারপুর দক্ষিণ তাঁর নিজের এলাকা। গত পাঁচ বছরে সেখানে মানুষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ । আশানুরূপ কাজ হয়নি। মানুষ কার্যত নাজেহাল। এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নেই। তেমনই আসানসোল দক্ষিণ। সেখানেও বিধায়ককে খুব একটা দেখা যায় না।
আর জি কর-কাণ্ডের আবহে, তিলোত্তমাদের প্রতিবাদ নিয়ে শর্ট ফিল্ম তৈরি করে, দলের রোষে পড়েন তিনি। ডায়মন্ড হারবারের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার তৎকালীন সহ সভানেত্রী রাজন্য়া হালদারকে সাসপেন্ড করে দেয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তবে সাসপেনশনের পরও শর্টফিল্মের মুক্তিতে অনড় ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয় TMCP-র তৎকালীন রাজ্য় সহ সভাপতি প্রান্তিক চক্রবর্তীকে। এরপর বিভিন্ন কারণে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তেই থাকে। কসবার ল' কলেজে গণধর্ষণের অভিযোগে যখন রাজ্যজুড়ে শোরগেল, তখন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন রাজন্য়া হালদার! তৃণমূলেরই একাংশের বিরুদ্ধে দলের অন্দরে, জুনিয়রদের মধ্যে AI করা নগ্ন ছবি ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেত্রী । তখন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরাও তাঁকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। এরপর ২০২৫ সালের শেষাশেষি এমনও শোনা যায় রাজন্যা বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন। তবে সেই সব জল্পনা উড়িয়ে প্রার্থী ঘোষণার পর এদিন তৃণমূল এবং বিজেপি, ২ দলের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন রাজন্যা।
