সুনীত হালদার, হাওড়া: ভোট মিটেছে মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই। বড়সড় রক্তপাত বা ছাপ্পা-রিগিংয়ের অভিযোগ ছাড়াই শেষ হয়েছে এবারের বিধানসভা নির্বাচন। মানুষের রায়ে দেড় দশকের শাসন শেষে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, আর নতুন করে ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে ভোট মিটলেও থামেনি অশান্তি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হিংসার খবর সামনে আসছে। কোথাও বিজেপি সমর্থক খুন, কোথাও আবার তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
হাওড়ায় খুন বিজেপি সমর্থক
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উদয়নারায়ণপুর এলাকায়। দেবীপুর পঞ্চায়েত এলাকায় এক বিজেপি সমর্থককে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। নিহতের নাম যাদব বর (৪৮)। পরিবারের দাবি, তিনি সক্রিয় কর্মী না হলেও বিজেপির সমর্থক ছিলেন। অভিযোগ, বিজেপির জয়ের আনন্দে গেরুয়া আবির খেলাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাঁর জন্য।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে বিজয়োৎসব শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, এলাকারই কয়েকজন তৃণমূল কর্মী মুখ চেপে ধরে তাঁকে টেনে নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক কোপানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, “বাড়ির কাছ থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। যারা করেছে তারা এলাকারই তৃণমূলের লোক।” একই অভিযোগ শোনা গেছে মেয়ের গলাতেও। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র গেরুয়া আবির মেখে ‘জয় শ্রী রাম’ বলার কারণেই এই হামলা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, এই উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই এবার পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সমীরকুমার পাঁজা। তিনি বিজেপি প্রার্থী প্রভাকর পণ্ডিতকে ১২ হাজার ২২৭ ভোটে পরাজিত করেছেন।
পুলিশের ভূমিকা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই খুন রাজনৈতিক কারণে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যত্র উত্তেজনা
অন্যদিকে, বেলেঘাটা এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যু ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও বড় জয় পেয়েও বারবার দলীয় কর্মী ও রাজ্যবাসীকে শান্তিরক্ষার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে আরএসএস কার্যকর্তারা। শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীও। এখন দেখার মানুষ তাঁদের বার্তায় সাড়া দেন কি না।
