কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট গড়ছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen. এবার নিজেই সেকথা ঘোষণা করলেন ওয়েইসি। আগামী ২৫ মার্চ হুমায়ুনের সঙ্গে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করবেন তিনি। সেই যৌথ সাংবাদিক বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। (Humayun Kabir)

Continues below advertisement

আসাদউদ্দিন জানিয়েছেন, হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট গড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। হুমায়ুনে সঙ্গে কলকাতায় যৌথ সাংবাদিক করবেন তিনি। সেখানে জোটের শর্তাবলী নিয়ে বিশদ তথ্য প্রকাশ করা হবে। ওয়েইসি জানান, দলকে, দলের কণ্ঠকে মজবুত করাই লক্ষ্য তাঁদের। দরিদ্র মানুষের হয়ে বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করতে চান তাঁরা। (West Bengal Assembly Elections 2026)

আসাদউদ্দিনের দলের সঙ্গে জোট নিয়ে কথা হচ্ছে বলে আগে জানিয়েছিলেন হুমায়ুন। জানিয়েছিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১৮২টি আসনে লড়বে। তাঁদের জোটসঙ্গী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে ভোটে লড়বে AIMIM. তারা আটটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে সেই সময় জানিয়েছিলেন হুমায়ুন। সেই সমীকরণে কোনও রদবদল হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

Continues below advertisement

তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসার পর নিজের পৃথক দলের ঘোষণা করেন হুমায়ুন। গোড়ায়, সিপিএম, কংগ্রেস, ISF-কে জোটে আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু কোনও পক্ষই সেভাবে সাড়া দেয়নি। এর পরই ওয়েইসির দলের সঙ্গে জোট গড়ার কথা জানান হুমায়ুন। সেই সময় তাঁর দাবি ছিল, ওয়েইসির দল ১৫টি আসনে লড়ে আগ্রহী। রেজিনগরে হুমায়ুনের সভামঞ্চেও দেখা যায় AIMIM প্রতিনিধিদের। এবার জোটে সিলমোহর দিয়ে দিলেন আসাদউদ্দিন। 

হুমায়ুনের সঙ্গে ওয়েইসির এই জোট পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকে তাকিয়ে সকলেই। কারণ তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর হুমায়ুনকে বিজেপি-র 'বি টিম' বলে কটাক্ষ শোনা যায় যেমন, তেমনই তিনি ভোট কাটাকাটির রাজনীতিতে নেমেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। জাতীয় রাজবনীতিতে বহু আগে থেকেই ভোট কাটাকাটির অভিযোগ ওয়েইসির দলের বিরুদ্ধে। AIMIM বিজেপি-র 'বি টিম' হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধীদের ভোট ভাঙিয়ে নেওয়ার কাজ করে বলে অভিযোগ বরাবরের। এবার পশ্চিমবঙ্গে তাদের আগমনে ভোটবাক্সে কী প্রভাব পড়ে, তা-ই দেখার।

দু'দফায় পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল। ভোটের ফল ঘোষণা ৪ মে। মোট ২৯৪টি আসনে ভোট হতে চলেছে। শাসকদল তৃণমূল ২৯১ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তিনটি আসন ছেড়েছে অনীত থাপার দলের জন্য়। তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি-ই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে হটিয়ে তারা এবার ক্ষমতাদখলের ডাক দিয়েছে। যদিও মমতা জানিয়েছেন, আরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে তাঁর দল।