কলকাতা: হেলিকপ্টারকে সামনে রেখে জোটে আহ্বান জানিয়েছিলেন তাবড় দলকে। সেই আহ্বানে তেমন সাড়া না মিললেও, হেলিকপ্টারে প্রচার থেকে সরলেন না আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত আকাশপথে প্রচার চালাবেন তিনি। অন্তত ৫০টি সভা করার কথা রয়েছে হুমায়ুনের। প্রচারে হুমায়ুনের সঙ্গী হবেন জোটসঙ্গী আসাদউদ্দিন ওয়েইসিও। হেলিকপ্টারে হুমায়ুনের প্রচার ঘিরে সাড়া পড়ে গিয়েছে তাঁর অনুগামীদের মধ্যে। (Humayun Kabir Helicopter Campaign)

Continues below advertisement

বেসরকারি উড়ান সংস্থা CHIPSAN-এর কাছ থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করেছেন হুমায়ুন। মঙ্গলবার বেলডাঙায় এসে নামে সেই হেলিকপ্টার। হুমায়ুন নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। ছোট আকারের সাদা-সবুজ হেলিকপ্টারটি চাক্ষুষ করতে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মোবাইলের ক্যামেরা তাক করে ছবি তুলতে নেমে পড়েন সকলে। হুমায়ুনকে দেখে 'জিন্দাবাদ' স্লোগান ওঠে। তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতে ভিড় ঢেলে এগিয়ে আসে কচিকাঁচারাও। (West Bengal Assembly Elections 2026)

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে নতুন দল গঠন করেছেন হুমায়ুন। সেই দলের কাজে বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়াতে হচ্ছে তাঁকে। এদিন হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে তিনি বলেন, "নতুন দল খুলেছি আমি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান আমি। আমাদের জোটসঙ্গী আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের ১৪ জন এবং আমাদের প্রায় ১৮০ জন, ১৯৪টি আসনে ভোটে লড়ছি আমরা। কমপক্ষে ৫০টি বিধানসভায় প্রচার করতে যেতে হবে আমাকে। ২০টি জায়গায় ওয়েইসে সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে সভা করব। তাই ৪ থেকে ২৭ এপ্রিল, ২৫ দিনের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া করা আছে আমার।"

Continues below advertisement

প্রচার কৌশল নিয়ে হুমায়ুন বলেন, "হেলিকপ্টারে আজ প্রথম চেপেছি আমি। ডোমকলে প্রচারে যাচ্ছি। কালকের দিনটা গ্যাপ। ৯ তারিখ থেকে টানা ১৯ তারিখ পর্যন্ত...দলের প্রার্থীদের জন্য প্রচারে যেতে হবে স্বাভাবিক ভাবেই। আমি নেতৃত্ব দিচ্ছি। তবে ২০০ আসনের মধ্যে ১২৭টিতে মুসলিম প্রার্থী দিয়েছি, বাকি সব অমুসলিম, যার মধ্যে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, জেনারেল রয়েছে। সর্বসমন্বয়ে বাংলার রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাইছি আমরা। বাংলার মানুষকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সরকার উপহার দিতে চাইছি।"

আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণা। সেদিনই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোদন করতে চাইছেন হুমায়ুন। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ হুমায়ুন। বাবরি মসজিদ নির্মাণ থেকে নিজের পৃথক রাজনৈতিক দল গড়ে জাতীয় রাজনীতিতেও ইতিমধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁকে নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতেও। তৃণমূলের দাবি, পিছন থেকে হুমায়ুনকে অর্থসাহায্য় জোগাচ্ছে বিজেপি, যাতে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসানো যায়। বিজেপি যদিও হুমায়ুনের সঙ্গে সংযোগের কথা অস্বীকার করেছে। কিন্তু হুমায়ুন কি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবেন? ৪ মে মিলবে উত্তর।