উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ক্য়ানিং পূর্বে আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করেছে ISF। তৃণমূলে থাকাকালীন, সিপিএমের ওপর হামলায় বারবার নাম জড়িয়েছে আরাবুল ইসলামের। এহেন আরাবুলকে নিয়ে কোন পথে হাঁটতে চলেছে বামেরা ও আইএসএফ ? উভয়ের জোট প্রক্রিয়ায়ই বা কোথায় দাঁড়িয়ে ? এনিয়ে এবিপি আনন্দর প্রতিনিধিকে দলের অবস্থান জানালেন ISF নেতা নৌশাদ সিদ্দিকি।
এবিপি আনন্দ : আপনাদের সঙ্গে বামেদের জোট কোথায় দাঁড়িয়ে আছে ?
নৌশাদ সিদ্দিকি : আমরা দীর্ঘ ৮ মাস ধরে চেষ্টা করেছিলাম। প্রথম জাতীয় কংগ্রেস, বামপন্থী এবং ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিকে এক এক করে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। প্রথমে জাতীয় কংগ্রেস বেরিয়ে চলে গেল। তারা আলাদা ঘোষণা দিল। ২৯৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফলে, বাম এবং কিছু ধর্মনিরপেক্ষ দলের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল। বামেদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা এবং আরও কয়েকটি জেলায় গুটিকয়েক সিটে এখনও তারা আমাদের সঙ্গে সম্মত হতে পারছে না বলে ওই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি। বাকি অনেক সিটে আলোচনার মধ্যে আমরা স্থির করে নিয়েছি। ওই সিটগুলোয় আমরা যৌথভাবে কাজও শুরু করে দিয়েছি।
এবিপি আনন্দ : কিন্তু, এখনও অনেক সিট রয়েছে যেগুলোতে আপনাদেরও প্রার্থী আছে, বামেদেরও প্রার্থী আছে...। সিপিএমও প্রার্থী দিয়েছে, আপনারাও প্রার্থী দিয়েছেন, কী হবে সেই সিটগুলোয় ?
নৌশাদ সিদ্দিকি : সেই সিটগুলোয় যাতে সিপিএম প্রার্থী তুলে নেয় তারজন্য আমরা বারবার আবেদন করছি। লজিক্যালি কেন আমরা প্রার্থী দিচ্ছি সেটাও বলেছি। এখনও তো নমিনেশন শুরু হয়নি। দেখুন না কী হয় !
এবিপি আনন্দ : সিপিএমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তারা আরাবুল ইসলামকে কোনওভাবেই মানবে না...
নৌশাদ সিদ্দিকি : প্রথম কথা হচ্ছে, বামেদের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি আমাদের জানানো হয়নি। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আমরা কাকে প্রার্থী করব, না করব সেটা আমাদের তো কোনও দল ঠিক করে দিতে পারে না। ঠিক বামেরা কাকে প্রার্থী করবেন না করবেন, আমরাও বামেদের ঠিক করে দিতে পারি না। কিন্তু, যে কথা আপনি বললেন, বা আরাবুল সাহেব সম্পর্কে বললেন...আমাদের অফিসিয়ালি এখনও এবিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। যা জেনেছি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলে থাকাকালীন, সিপিএমের ওপর হামলায় বারবার নাম জড়িয়েছে আরাবুল ইসলামের। ২০১২ সালে ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জে সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছিল সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে।
পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৩ সালে বামেদের মিছিলে বোমা-গুলি নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাতেও অভিযুক্ত ছিলেন আরাবুল ইসলাম। সম্প্রতি সেই আরাবুল ইসলাম তৃণমূল ছেড়ে ISF-এ যোগ দেন। তাঁকে ক্য়ানিং পূর্বে প্রার্থীও করেছে নৌশাদ সিদ্দিকির দল।
