কলকাতা : দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে হঠাৎ একটা নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বড় বড় নেতা, প্রার্থীদের ছাড়িয়ে চর্চায় এখন আইপিএস অজয় পাল শর্মা। ইনি উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিক। বাংলার দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ তাঁকে করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু হঠাৎ চর্চায় কেন? কী এমন ঘটিয়েছেন?
২৯ এপ্রিল বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট রাজ্যে। হাতে আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। অজয় পাল শর্মা ২৭ এপ্রিল, সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশকে নিয়ে হানা দিয়েছিলেন। ভোটারদের ভয় দেখানোর পাশাপাশি ভয় দেখিয়ে ভোটার কার্ড হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে জাহাঙ্গীরের বাড়ির লোককে কড়া বার্তা দেন তিনি। অজয় পাল শর্মা সেই হুমকির বার্তা ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়াতে। আর তারপর শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক তরজা। কিন্তু বাংলা তো আছে বাংলাতেই। আইপিএস-এর এই সব ধমকে কে বা ভয় পায়। যার বিরুদ্ধে ধমক দিয়েছিলেন, পাল্টা সেই জাহাঙ্গিরই কড়া জবাব দিলেন আইপিএস-কে।
তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে অজয় পাল শর্মা বলেছিলেন, ''জাহাঙ্গীরের বাড়ির লোক এখানে উপস্থিত আছেন, তাকে ভালভাবে বুঝিয়ে বলে দাও, যে বার বার যে খবর আসছে লোককে ধমকানোর, এর কিন্তু ফল ভাল হবে না।'' এই কথার পাল্টা দিয়ে তৃণমূল নেতা ও প্রার্থী জাহাঙ্গির জানান, ''নির্বাচন কমিশনের যে নিয়ম আছে, তাতে কোনও পুলিশ অবজার্ভার নিজে উপস্থিতিতে থেকে কারোর বাড়ি গিয়ে কাউকে ধমক চমক দেওয়া। উনার যদি কিছু বলার থাকে, সেই এলাকার SP-কে বলবে, লোকাল থানাকে জানাবে, তাদের মারফতে কিছু জানাতে পারেন। কিন্তু এটা না করে, উনি শুধু আমার বাড়িতে না, আমার কর্মীদের বাড়িতে গিয়েও ধমক চমক দিচ্ছেন।'' আরও পড়ুন : যোগীরাজ্যের IPS অফিসার এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট 'দবং' অফিসারকে কটাক্ষ মহুয়া মৈত্রের!
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের এই সব ধমক চমক দিয়ে লাভ নেই। উনি যদি নিজেকে সিনেমার হিরোদের মত সিঙ্ঘম মনে করেন, তবে আমরাও পুষ্পা, ঝুঁকেগা নেহি। আমরা ঝুঁকবো সাধারণ মানুষের কাছে, আমরা ঝুঁকবো গণতন্ত্রের কাছে। কোনও দিল্লির পুলিশ বা বিজেপির দালালের কাছে আমরা মাথা নত করব না।''
