Kerala Assembly elections : বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Elections) এমনিতেই যোগ্য প্রার্থী বাছতে গিয়ে সমস্যা বাড়ে সাধারণ মানুষের। সৎ, শিক্ষিত, প্রভাবশালী দলের প্রার্থী বাছার পর আপনিও পড়তে পারেন ধন্ধে। কারণ, একই নামের একাধিক প্রার্থী পাবেন আপনার কেন্দ্রেই।

Continues below advertisement

প্রভাবশালী দলের প্রার্থীর নামেই পাবেন আরও দু-জনসম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে এই ধরনের ধন্ধের মুখে পড়তে পারেন আপনি। এরকমই সমস্যা তৈরি হয়েছে দক্ষিণের রাজ্য কেরলে। যেখানে প্রভাবশালী দলের ওজনদার প্রার্থীদের নামে একাধিক নির্দল ক্যান্ডিডেট মনোনয়ন দাখিল করেছেন। যা নিয়ে বেজায় সমস্যা তৈরি হয়েছে বড় দলগুলির মধ্যে। দ্বন্দ্ব কেবল পার্টির মধ্যেই থেমে নেই। পছন্দের প্রার্থীর নামে আরও একাধিক নাম দেখে ধন্ধে রয়েছেন ভোটাররাই। 

পরিচিতি নিয়ে সমস্যা আগামী ৯ এপ্রিল কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই জোর কদমে যা নিয়ে প্রচার করেছেন প্রার্থীরা। ভোটযুদ্ধের বৈতরণী পার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বড় রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েটরা। সাধারণ মানুষকে নিজেদের প্রার্থীর সঙ্গে পরিচয় করাতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে তাদের। কারণ ওই একই নামের আরও নির্দল প্রার্থী বেরিয়ে পড়েছেন প্রচারে।

Continues below advertisement

'অপরনামর' বা 'মিতা' তৈরি করছে ধন্ধকেরলের অনেক বিধানসভায় তৈরি হয়েছে প্রার্থীদের নাম নিয়ে দ্বন্দ্ব। যেখানে একই নামের বা নামের মতো একাধিক প্রার্থী ভোটে দাঁড়িয়েছেন। দক্ষিণের রাজ্যে এই ধরনের প্রার্থীদের 'অপরনামর' বা 'মিতা' বলে। এই প্রার্থীদের নিয়ে চিন্তা বেড়েছে বড় দলগুলিতে। কারণ, এই পরিস্থিতি ভোটারদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া আসনগুলির ফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

খোদ মুখ্যমন্ত্রী পড়ছেন সমস্যায় ?এবারও বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে কেরলের মুখ্য়মন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। কান্নুর জেলার ধর্মদম কেন্দ্র থেকে আবারও নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। খোদ মুখ্য়মন্ত্রীকে ইভিএমে মুখোমুখি হতে হচ্ছে 'আইডেন্টিটি ক্রাইসিসের'। কারণ পাশের চেডিচেরি এলাকা থেকে বিজয়ন.এমএ নামের একজন নির্দল প্রার্থীও এবার মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এমনিতে মুখ্য়মন্ত্রীর মুখ পরিচিত হলেও ইভিএমে প্রার্থী বাছাইয়ে বিভ্রান্তি হতে পারেন ভোটাররা। একই নামের একাধিক প্রার্থী থাকলে EVM -মেশিনে বোতাম টেপার সময় ধন্ধ বাড়তে পারে।

মুশকিল আসানে কী কৌশল নিয়েছে বামেরামুখ্য়মন্ত্রী বিজয়ন পরিচিত মুখ হলেও ইভিএমে প্রার্থী বোঝাতে প্রার্টির লোগোকেই হাতিয়ার করা হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারে। CPM প্রার্থী তার প্রচারে কাস্তে হাতুরি তারা প্রতীক নিয়ে জনতার দরবারে যাচ্ছেন। ভোটাররা যাতে নামের পাশে প্রতীক দেখে বুঝতে পারেন, তাই প্রতীকের বড় কাট আউট রাখা হচ্ছে নির্বাচনী জনসভায়। তবে শুধু মুখ্য়মন্ত্রী নন, এই 'মিতা' সমস্যার মুখে পড়েছেন কেরলের অনেক মন্ত্রীও। 'ডামি ক্যান্ডিডেট' বিভ্রান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। 

একই নামের দুই প্রার্থী একই কেন্দ্রেবেপোর থেকে এবার প্রার্থী হয়েছেন পিএ মহম্মদ রিয়াজ। এখানেই ভোটে দাঁড়িয়েছেন মহম্মদ রিয়াজ পিসি ও মহম্মদ রিয়াজ টিটি। কলমেশ্বরী কেন্দ্রে পি রাজীবও একই সমস্যার মুখে পড়েছেন। আরও একজন রাজীব প্রার্থী হয়েছেন এই কেন্দ্রে। সিপিএমের পাশাপাশি কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতারাও পড়েছেন এই সমস্যায়। হরিপদ কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেসের রমেশ চেন্নিথলা। তাঁকে জনতার কাছে বিভ্রান্তিতে ফেলেছেন নির্দল প্রার্থী রমেশ সি।

বাদ যাননি বিজেপির প্রার্থীরাওএই সমস্যার থেকে বাদ পড়েননি বিজেপি প্রার্থীরাও। এনডিএ প্রার্থী রাজীব চন্দ্রশেখর দাঁড়িয়েছেন নেমম কেন্দ্র থেকে। নির্দল প্রার্থী জিএস রাজীব কুমারও এই কেন্দ্রে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। খোদ বিজেপির রাজ্য় সভাপতিকে কেএস সুরেন্দ্রন এই ধন্ধের তালিকায় নাম লেখাতে হয়েছে। এবার মানেশ্বরম থেকে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন তিনি। মানেশ্বরমেই অতীতের ইতিহাস ভোলেননি তিনি। ২০১৬ সালে মাত্র ৮৯ ভোটে এই কেন্দ্র থেকে হারতে হয়েছিল তাকে। সেই সময় হারের জন্য একই নামের একাধিক নির্দল প্রার্থীর কথা উল্লেখ করেছিল বিজেপি।