রুমা পাল, কলকাতা : গত সোমবার একসঙ্গে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার বদল করে নির্বাচন কমিশন। আর এবার আরও একবার ভোটের আগে রাজ্য প্রশাসনের খোল-নলচে বদলাচ্ছে কমিশন।
গত ২৩ মার্চ ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। তার মধ্য়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারও। ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সুরজিৎ রায়কে নিয়োগ করে নির্বাচন কমিশন। যিনি আগে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিডিও ছিলেন। পরের দিনই বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের BDO-কে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করায় আপত্তি জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে দলের তরফে নালিশ করা হয়। তারপরই রাজ্য সরকারের কাছে অফিসারের নামের প্যানেল চাইল কমিশন।
এর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রাম সহ ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসারের শূন্য পদে নিয়োগের কথা জানিয়েছে কমিশন। যে ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসারের শূন্য পদ পূরণ করা হয়েছে, সেগুলি হল, নন্দীগ্রাম, ফাঁসিদেওয়া, হরিহরপাড়া, করিমপুর, খানাকুল, কেশিয়াড়ি, বিনপুর, রায়পুর ও বর্ধমান দক্ষিণ।
কেন ফের বদলাতে পারে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার ?
এবার বিধানসভার মহারণের ভরকেন্দ্র ভবানীপুর। কারণ এখানেই ক্ল্যাশ অফ টাইটানস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই এই কেন্দ্রে। গতবার যে লড়াইটা ছিল নন্দীগ্রামে। ভোটের ফলে দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার সেই লড়াইটাই কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। গত মঙ্গলবার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে সরব হন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে যাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে, তিনি ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ৷ তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি চিঠি পাঠানো হয় দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দফতরে। সূত্র বলছে, তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হতে পারে !
অন্যদিকে, আজ দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। অর্থাৎ, আর এর এক মাসও বাকি নেই। যাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইব্য়ুনালে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ট্রাইব্যুনালের মাথায় কোন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও বিচারকরা থাকবেন, তা ঠিক হলেও, ট্রাইব্য়ুনাল কবে থেকে কাজ শুরু করবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
