কলকাতা : বাঘাযতীনে শ্যুটআউটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম দীপ রায়, বিধান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজা বণিক ও জয়ন্ত ঘোষ। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি বাইকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। খবর পেয়ে এদিন ঘটনাস্থলে যান সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "তৃণমূল দল মানেই কাটমানি এবং গুন্ডাবাজির দল। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনও জায়গা নেই। যারা মনে করেন তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছি ভালর জন্য, তাঁরা নিজেদের সর্বনাশ করছেন। প্রত্যক্ষভাবে এই পাটুলি থানার ওসি এই সমস্ত গুন্ডার সঙ্গে সহবত করেন। তাই, আজ এই পরিণতি। কেন এই গুন্ডারা জানে আমাদের কিছু হবে না থানার ওসি আমাদের সঙ্গে আছেন, থানার ওসি কমরেডদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আমাকে অনেকে বলেছেন, এই ওসি একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন। যে, কমরেড আপনারা শূন্য থাকবেন। উনি জানেন না যে ওঁর চাকরি জীবনে শূন্য টেনে দেওয়া যায়। আমরা দিইনি, ক্ষমা করেছি। কেননা, আমরা কমিউনিস্টরা ব্যক্তিগত কারো ক্ষতি হোক চাই না। দেখবেন, আমরা পড়েছি সেই মধ্যযুগ থেকে, লুঠের সম্পত্তি নিয়ে মারামারি হয়। শেষ পর্যন্ত এক একজনকে খুন করে। গোটা রাজ্যটাকে লুঠের কাজে ব্যবহার করেছেন মমতা।"

Continues below advertisement

কী ঘটনা ?

ভোটের আগে বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় শ্যুটআউট। গুলিতে এক তৃণমূলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত তৃণমূলকর্মীর নাম রাহুল দে। বাঘাযতীনের এক বহুতলের ছাদে অন্তত ৩ রাউন্ড গুলি চলার খবর পাওয়া যায়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওই বহুতলে জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে এক পরিচিতর ফ্ল্যাটে গেছিলেন রাহুল। ফ্ল্যাটের ছাদে খাওয়াদাওয়া চলার সময় গুলি চলার খবর পাওয়া যায়। বহিরাগত কয়েকজন যুবক এসে রাহুলের খোঁজ করে, তারপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ। জিৎ মুখোপাধ্যায় গতকাল ফোন করে নিজের ফ্ল্যাটে রাহুলকে ডেকেছিল বলে দাবি মৃতের পরিবারের। আহত হয়েছেন জিৎ মুখোপাধ্যায়ও। ঘটনাস্থলে পাটুলি থানার পুলিশ। আহত জিৎ মুখোপাধ্যায়কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Continues below advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে আহত জিৎ মুখোপাধ্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জিৎ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল থানায়, তাতে কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। কিছুদিন আগেই এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাপাদাপি করতে দেখা গেছে জিৎ ও রাহুলকে, এমনই অভিযোগ বাসিন্দাদের। স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়ে লাভ হয়নি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, টাকা পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত কারণে খুন করা হতে পারে রাহুল দে-কে। তবে কি সিন্ডিকেট বিবাদে খুন তৃণমূল কর্মী? উঠছে সে প্রশ্নও।