পাণ্ডবেশ্বর: বঙ্গ ভোটের দামামা বাজতেই ভোট যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়েছেন সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম থেকে ISF, কেউ কাউকে এক চুলও জায়গা ছাড়ছে না। ময়দানে নেমে পড়েছেন হেভিওয়েটরাও। বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সভা থেকেই ফের 'লকডাউন' নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বাংলায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। যার কারণেই গোটা বিশ্বে সঙ্কট দেখা দিয়েছে গ্যাসের। আর এর জেরেই ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে লকডাউন দেখা দেবে? এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে বহু মানুষের মনে। পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা থেকে এই নিয়েই বিশেষ মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ' লকডাউন করবে ভাবছে কি না জানি না', 'লকডাউন করে মানুষকে গৃহবন্দি করবেন। '
বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে। আবার অ্যালার্ট করেছে। ওনাদের অ্যালার্ট করার মানেটা তো আমি বুঝি। লকডাউন করবে ভাবছে কি না জানি না, করলে করবে। লকডাউন করে মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখবেন। মানুষকে নোটবন্দি করবেন, মানুষকে ভোটবন্দি করবেন, মানুষের নাম কেটে দেবেন। জেনে রাখবেন, কোভিড-এর সময় লকডাউন ছিল। আমরা ২০২১ সালে কোভিডের মধ্যে যদি লড়াই করতে পারি, যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করে লড়াই করবার জন্য আমরা রাজি আছি।'
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লোকসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার কিছু কথা উল্লেখ করেন। আর এর পর তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পরে সমাজমাধ্যমে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বিবরণ দিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কটের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং জনগণকে এর জন্য প্রস্তুতি থাকতে ও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে, তিনি কোনও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কোনও বিধিনিষেধের ঘোষণা করেন নি।
তবে এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি শব্দ ঘুরপাক খাচ্ছে। সেটি হল 'এনার্জি লকডাউন।' এর অর্থ হল, জ্বালানি বাঁচাতে সরকার যাতায়াত বা বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ করবে। আর এটাকেই নেট দুনিয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে 'এনার্জি লকডাউন।
সাম্প্রতিক, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা IEA ১০ দফার একটা সুপারিশ জারি করেছে। যাতে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা উচিত আর কী কী করা উচিত নয়। এই সুপরিশে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে বাড়িতে থেকে কাজ করুন, হাইওয়েতে গাড়ির গতিবেগ ১০ কিমি কমিয়ে দিন, পারলে গণপরিবহন ব্যবহার করুন। যদিও এটা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের তফর থেকে এখনও কিছু জানান হয়নি।
