মালদা, কালিয়াচক : বুধবার মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়। SIR-এ নাম বাদের প্রতিবাদে চলে বেনজির তাণ্ডব ! আগুন লাগানো হয় গাড়িতে। অবাধে চলে ভাঙচুর। সকাল থেকে রাত অবধি আটকে রাখা হয় ৩ মহিলা সহ ৭ জন বিচারককে। ঘন্টার পর ঘণ্টা চলে ঘেরাও। আটকে ছিলেন হাইকোর্ট নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা। মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই সময়েও ধাওয়া করা হয় তাঁদের গাড়িকে। এই গোটা ঘটনায় এবার রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন। রাজ্য় পুলিশের DG-র কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। গোটা বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে, খবর কমিশন সূত্রে। 

Continues below advertisement

কী হয়েছে কালিয়াচকে ? 

গতকাল সকাল থেকেই কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিস ঘেরাও করে চলছিল বিক্ষোভ। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি, BDO অফিসের গেট আটকে দিয়ে চলে বিক্ষোভ। অবশেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে গভীর রাতে উদ্ধারের পরও, রাস্তায় বাঁশ ফেলে এভাবে আটকানোর চেষ্টা করা হয় জুডিশিয়াল অফিসারদের গাড়ি। শেষ অবধি কোনওক্রমে এলাকা ছাড়েন তাঁরা। 

Continues below advertisement

গত ২৩ মার্চ জেলা প্রশাসনের কাছে গন্ডগোলের আশঙ্কা প্রকাশ করেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নিষ্পত্তির কাজ ব্লক অফিস থেকে DM অফিসে সরানোর জন্য আগেই জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনকে জানানোর পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকারকে। আগেই এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। গত ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। জুডিশিয়াল অফিসার কাউকে অবৈধ ভোটার মনে করলে তিনি ভোট দিতে পারবেন না। 

ইতিমধ্যেই এসআইআর- এর চারটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এবছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ২ দফায় হতে চলেছে। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল। ১৫২ আসনে সেদিন ভোটগ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। সেদিন ১৪২ আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর ৪ মে হবে ভোট গণনা। এবার ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর- এর প্রক্রিয়া হওয়ায় বিজেপিকে বারবার আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শাসক দলের পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধীরাও ভোটের ময়দানে এবার হাতিয়ার বানিয়েছে এই এসআইআর ইস্যুকেই। এদিকে এসআইআর- এর চারটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরিয়ে গেলেও অনেক ভোটারই তাঁদের নাম খুঁজে পাননি। ফলে এবার তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কিনা, তা নিশ্চিত নয় এখনও।