কলকাতা:অমিত শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন ঘিরে অশান্তির ঘটনায় ডিসি-সহ চার পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই  নিয়ে এবার আক্রমণ শানালেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরে তাঁর পোস্টারে থুতু ছেটানো হয়েছে, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বাড়ি লক্ষ্য করে জুতো দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন তিনি। (Mamata Banerjee)

Continues below advertisement

রবিবার জিয়াগঞ্জের সভা থেকে ভবানীপুরের অশান্তির ঘটনায় মুখ খোলেন মমতা। বলেন, “বিজেপি যা বলছে, ওয়াশিং মেশিন তা-ই শুনছে। আমার বাড়ির সামনে হামলা হল। আমি মনে করি, মনোনয়ন জমা দেওয়ার অধিকার আছে সব রাজনৈতিক দলের। সব বাইরের লোক নিয়ে এসেছিল। তাও কিছু নয়। তুমি যখন আমার পোস্টারে থুতু দিচ্ছিলে, আমার পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে, মা কালীর মন্দিরের আমি একটা গেট করে দিয়েছি বড়, তুমি জুতো দেখাচ্ছিলে…অভিষেকের বাড়ি লক্ষ্য করে জুতো দেখাচ্ছিলে। পাড়ার লোকেরা স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিবাদ করেন। বিজেপি-র কথায় ডিসি-সহ চার জন সাসপেন্ড। পাঁচটা রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে। ভাল করে বুঝে দেখুন, আপনার বাংলার মাটিতে যারা কাজ করত, জল দিত, আলো দিত, রাস্তা করত, খাদ্য দিত, বিপদে সাহায্য় করত, ৫০০-৬০০ জনকে বদলি করেছে। অন্য রাজ্যে পাঠিয়েছে।” (West Bengal Assembly Elections 2026)

বেছে বেছে পশ্চিমবঙ্গেই নির্বাচন কমিশন ব্যাপক বদলি করছে বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর কথায়, “পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, শুধু বাংলা থেকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সব অফিসার যদি বাংলা থেকে চলে যায় কাজ করবে কে! কেন করেছে বলুন তো! যাতে টাকা আমদানি করতে পারে, অস্ত্র আমদানি করতে পারে, ড্রাগ আমদানি করতে পারে, বাসে করে লোক ঢোকাতে পারে আর বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিএপিএফ, ইডি-সিবিআই দিয়ে এখন থেকে রেড করছে। নির্বাচনের প্রচার চলছে, এখন রেড করতে পারো না। এতদিন করোনি কেন? সবাইকে পাঠিয়ে দিয়েছে, কী বোঝাপড়া জানি না। আমাদের অফিসাররা অপমানিত হয়ে তামিলনাড়ুতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেছে বেছে বিজেপি পরিবারের কে আছে…আত্মীয় পরিজনদের বেছে বেছে বাংলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বলছে মেয়েদের চেক করা হবে। কাল ভবানীপুরে একজন বয়স্ক মহিলা গাড়িতে চেপে যাচ্ছিলেন। তাকে এমন অসভ্যতামি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেক করেছে, যাতে মা-বোনেদের লজ্জা হবে।”

Continues below advertisement

বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে শাহের সঙ্গে রোড শো করে ভবানীপুরের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা করেন শুভেন্দু। সেই সময় পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। রাস্তায় কালো পতাকা দেখানো হয় শাহকে, স্লোগান তোলা হয় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের পতাকা নিয়ে থাকা লোকজনের সঙ্গে মারামারিও শুরু হয় বিজেপি-র পতাকা কাঁধে নিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া লোকজন। বিশেষ করে মমতার বাড়ির কাছ দিয়ে মিছিল এগনোর সময় পরিস্থিতি তেতে ওঠে। 

সেই ঘটনায় চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। সাসপেন্ড করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডিসি সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সার্জেন্ট সৌরভ চট্টপাধ্যায়কে। এমনকি মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালকে চিঠি দিয়ে পদক্ষেপের নির্দেশেও দেওয়া হয়েছে। সেই নিয়েই এবার সরব হলেন মমতা।