কলকাতা: বাংলার ভোট একেবারে দোরগোড়ায়। ২৩-এ প্রথম দফা, আর ২৯-এ দ্বিতীয় দফা। সুতরাং হাতে আর বেশি দিন নেই। অদা-জল খেয়ে ভোট ময়দানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে ফেলতে নেমে পড়েছেন সমস্ত দলের প্রার্থীরা। এবার নিজের কেন্দ্রের জন্য প্রচারের ময়দানে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন জেলায় জেলায় তৃণমূলের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করেছেন তিনি। এবার নিজের জন্য লড়াই শুরু। 

Continues below advertisement

সোমবার ভবানীপুর দেখল এক বেনজির দৃশ্য। বাকিদের থেকে পুরো অন্যরকম পদ্ধতিতে জনসংযোগ শুরু করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের বিভিন্ন আবাসনে ঢুকে প্রচার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে এবার ডোর টু ডোর ক্যাম্পেনে নজর কাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। কখনও সেক্সপিয়র সরণি, আবার কখনও লর্ড সিনহা রোডের হাই রাইজ বিল্ডিংয়ে ঘুরে ঘুরে নিজের হয়ে করলেন ভোটপ্রার্থনা।

ভোট প্রচারে সোমবার সকালে বেলেঘাটা যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলেঘাটা থেকে ফিরে সেক্সপিয়র সরণি আসেন। সেক্সপিয়র সরণি থানার উল্টোদিকে একটা ছোট মিটিং করেন তিনি। কোনও বড় মঞ্চ নেই, একজন দাঁড়াতে পারবে এমন একটি ছোট্টো স্টেজে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন। তারপর তিনি গঙ্গা-যমুনা বলে একটি আবাসন আছে, সেখানে ঢুকে গিয়ে সেখানকার আবাসিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এখানে সবাই একসঙ্গে থাকব, এই অঙ্গীকার করে সবার কাছে নিজের ভোট চান। 

Continues below advertisement

একদিনে একাধিক জনসভা ও রোড-শো করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রচারে, কমপ্লেক্সে ঢুকে প্রচার, এই প্রথম। 

জানা গিয়েছে, ভোটারদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় মূলত তিনটি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন। বিধায়ক হিসাবে নিজের কাজ সম্পর্কে সবটা জানিয়েছেন তিনি। আবার, গত ১৫ বছরে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর এবং পুরো কলকাতার উন্নয়নে তাঁর সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার খতিয়ানও তুলে ধরেন। অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার পরিষেবার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা ও ভাল দিক, সবটা জানতে চান এবং বাসিন্দাদের মতামত নেন। পাশাপাশি, আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় ফিরলে সমগ্র এলাকার পরিকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে আর কী কী পদক্ষেপ নেবে, তার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

উল্লেখ্য, রবিবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের লেডিজ় পার্কে স্থানীয়দের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিলেন। অনেকের মতে এটাও ছিল নেত্রীর ভোট প্রচারের কৌশল। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ভবানীপুরে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মন পেতে এভাবে তাঁদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি দুর্দান্ত কার্যকর কৌশল।