কলকাতা: সামনেই ভোট। তার আগে হাইভোল্টেজ রবিবার। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা, তো অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি। স্বাভাবিকভাবেই চড়া সুরে চলল ভোটের প্রচার। তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। বক্তব্যের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী

Continues below advertisement

তিনি লিখেছেন, 'এটা কি মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা? ভাষা-সন্ত্রাসে কি বাংলা ভাষার গরিমা-মর্যাদা, বাঙালির অস্মিতা এবার বিপন্ন হচ্ছে না? বুঝতে পারছি, পরাজয়ের আতঙ্ক মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রাস করেছে। তিনি মাথা ঠান্ডা রাখতে পারছেন না, মুখের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।' 

এদিনের সভা থেকে EVM নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'আমি জানি ওদের প্ল্যান। EVM মেশিন যখন চেক করবেন, VVPAT যেন থাকে, এটা দেখে রাখবেন। আর ভোট হয়ে গেলে, ওরা কিন্তু অনেক দিন সময় পাবে, রাতের বেলায় অন্ধকার করে, শুধু CRPF-কে দিয়ে পাহারা দিয়ে আর সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে পাহারা দিয়ে, ভিতরে যাতে মেশিন বদলাতে না পারে, সেই জন্য ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং নজর রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।' 

Continues below advertisement

এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, 'নিশ্চিত পরাজয় সেটা উনি (মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) জানেন। সেজন্য এখন থেকে অজুহাত তৈরি করছেন, কেন উনি হেরে গেলেন। EVM মেশিন হ্য়াক হল। আরও কী যেন হচ্ছে। এসব বলে লাভ হবে না। মানুষ তৃণমূলকে হারাবে, বিজেপিকে জেতাবে।' 

ভোটের দিন যত এগোচ্ছে ততই তপ্ত হচ্ছে রাজ্য-রাজনীতি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলছে। জনতার রায় কোনদিকে উত্তর মিলবে চৌঠা মে।

তৃণমূল যখন SIR ইস্যুতে বার বার নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে চলেছে, তখন রবিবার উত্তরবঙ্গের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বললেন - কমিশনের উপর সম্পূর্ণভরসা রয়েছে তাঁর। এবার পশ্চিমবঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, এবার ভয়হীন নির্বাচন হবে। সামশেরগঞ্জ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন- EVM মেশিন খারাপ করে দেবে অনেক জায়গায় প্ল্যান করে। সেই EVM মেশিন সারাতে আসলে দেবেন না। 

মোদি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের জন্য এবার ভোট দিন। নিজের অধিকারের জন্য এবার ভোট দিন। বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনে সিলমোহর দিন। নির্বাচন কমিশনের উপর আমার সম্পূর্ণ ভরসা আছে, এবার পশ্চিমবঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, এবার ভয়হীন নির্বাচন হবে, এবার পরিবর্তনের নির্বাচন হবে।