কলকাতা : রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের ঝড়। সেই ঝড়ে একাধিক জেলায় কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের ৯ টি জেলা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো হেরে গেলেন তাঁর গড় ভবানীপুর থেকে, বড় মার্জিনে। কিন্তু গণনা সন্ধেতেই তিনি করলেন বিস্ফোরক অভিযোগ। বললেন, সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে গণনাকেন্দ্রে তিনি গিয়েছিলেন। আর সেখানে নাকি তাঁকে গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে, ধাক্কা মারা হয়েছে। সোমবার ফল ঘোষণার আগেই গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার ভবানীপুর বিধানসভার গণনাকেন্দ্র সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূল নেত্রী বলেন' বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন লুট করেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কমিশন। ' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, "দুপুর ৩টা থেকে ওরা আমাদের মারধর করছে, আমাকে লাথি মেরেছে, সিসিটিভি বন্ধ করে দিয়েছে, আমাদের একজন এজেন্টকে ঢুকতে দেয়নি। আমি ৫ মিনিটের জন্য ভেতরে গিয়েছিলাম, আমাদের এজেন্টকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম, ওরা আশ্বাস দিয়েছিল যে ওদের ঢুকতে দেবে কিন্তু তারপর আর কেউ ছিল না। আমি সব জায়গায় অভিযোগ করেছি।"
পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী 'আপনারা কি মনে করেন এটা জয়? এটা একটা অনৈতিক বিজয়...কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিলে যা কিছু করেছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা শুধু লুট, লুট আর লুট। আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’
একুশের পর ছাব্বিশ। নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুর। ফের শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাস্ত হলেন মমতা ।এবার একেবারে ঘরের মাঠে, কার্যত নিজের পাড়ায় লড়াই। কিন্তু ফলাফল একই—সরকার ক্ষমতাচ্যুত, দলের ভরাডুবি, আর তৃণমূল নেত্রী নিজেও হারের লজ্জা এড়াতে পারলেন না। ২০২১ সালে নিজের গড় নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে তাঁকে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে হারিয়ে দিলেন তিনি। জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের জয়ী বিজেপি প্রার্থী, বলেন—এই জয় মানুষের।
