সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা  : মুকুল রায় কোন দলের ? দুঁদে রাজনীতিক যখন কঠিন অসুখের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন এই নিয়ে কটাক্ষ - পাল্টা কটাক্ষের অন্ত ছিল না। তবে মুকুল রায় প্রয়াত হওয়ার পর , তাঁর পুত্র  শুভ্রাংশু রায় বলেছিলেন, তাঁর বাবার শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ রেখেছিলেন তৃণমূলের সদস্যরাই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুকুল রায়ের খোঁজখবর রাখতেন বলে শুভ্রাংশু  জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের তৃণমূলের প্রার্থীতালিকায় নেই শুভ্রাংশু রায়ের নাম। আর তারপরই রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুকুল পুত্র। এবারের বিধানসভা ভোটে বীজপুর কেন্দ্র থেকে শুভ্রাংশু রায়কে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল, এমন জল্পনা ছিল। কিন্তু, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বীজপুরের বিদায়ী বিধায়ক সুবোধ অধিকারীকে প্রার্থী করেছে। শোনা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে দলের অন্দরেই নিজের অসন্তোষ নিয়ে কথা বলেছেন শুভ্রাংশু রায়। প্রার্থী করা না হওয়া নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বিস্ফোরক মন্তব্যও করেছেন তিনি।  

Continues below advertisement

শুভ্রাংশু রায় দাবি করেছেন, দলের তরফ থেকে তাঁকে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি মুকুল রায় নই যে যেখান থেকে খুশি প্রার্থী হব। আমি দলকে জানিয়েছিলাম, বীজপুর বা আশেপাশের কোনও কেন্দ্র থেকে আমাকে প্রার্থী করা হোক।” যদিও শেষপর্যন্ত সেই দাবি মানা হয়নি। তবে তাতেও কোনও আক্ষেপ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি। শুভ্রাংশুর কথায়, দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তিনি নির্ধারিত প্রার্থীর হয়ে প্রচারেও অংশ নিয়েছেন।            

অন্যদিকে, কাঁচরাপাড়া পৌরসভা-র উপ-পুরপ্রধান হিসেবে নিজের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই পদে থেকেও কার্যত কোনও কাজ করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমার যে দফতরগুলি রয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশ কাজই এখন অনলাইনে হয়। ফলে উপ-পুরপ্রধান হিসেবে আলাদা করে কোনও ভূমিকা থাকে না।”                        

Continues below advertisement

এই কারণেই তিনি নিয়মিত বোর্ড মিটিংয়েও উপস্থিত থাকেন না বলে জানিয়েছেন শুভ্রাংশু। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে দলের অন্দরে এই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।