কলকাতা : পাখির চোখ, ২০২৬। নজরে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোট। খাতায়-কলমে 'সংখ্যালঘু' হলেও, এ রাজ্যের ভোট-রাজনীতির অন্যতম ফ্যাক্টর! ২০১১ সাল থেকেই যে ভোটব্যাঙ্কে কার্যত একচেটিয়া আধিপত্য তৃণমূলের। সেই ভোটব্যাঙ্কেই এবার ভাগের ভয় তৃণমূলের? তৃণমূলের তরফে এমন কোনও আশঙ্কার কথা শোনা না-গেলেও পর্যবেক্ষকদের দাবি, রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘু সমাজকে পাশে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছে বিজেপি অন্যদিকে সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর নতুন দল করেছেন। MIM দের সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাইছেন তারা। পাশে চাইছে আইএসএফকেও। এখন এই মুসলিমদের আলাদা একটা জোট তৈরি হওয়ায় তা ভোট কমাতে পারে তৃণমূলের, এমনটাই মনে করছেন অনেকে।  

Continues below advertisement

২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বাস করেন ২ কোটি ৪৬ লক্ষ মুসলিম। এবং এ রাজ্যের মুসলিমরা ৩ জেলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ - মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর। মুসলিমরা রাজ্যের মোট ভোটের ৩০ শতাংশ। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন,  এই ৩০ শতাংশ ভোট কিন্তু চাপে ফেলতে পারে। মুর্শিদাবাদ জেলায় বিধানসভা আসন সংখ্যা ২২। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এর মধ্যে ২০টিতে জিতেছিল তৃণমূল (প্রায় ৯১ শতাংশ)। 

মালদার ১২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে গতবার তৃণমূল জিতেছিল ৮টিতে (প্রায় ৬৭ শতাংশ)। আর উত্তর দিনাজপুরের ৯টি বিধাসভা আসনের মধ্যে ২০২১-এ তৃণমূল পেয়েছিল ৭টি। পরিসংখ্য়ান বলছে, ১৭৪টি আসনে মুসলমান ভোটের হার ১৫ শতাংশের বেশি। গত বিধানসভায় এর মধ্যে ১৪৭টিতে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু  হুমায়ুন কবীর এবং নৌশাদ সিদ্দিকি একজোট হলে কি মুসলিম ভোটব্য়াঙ্কে তৃণমূলের এই একাধিপত্য় অক্ষুণ্ণ থাকবে? তৃণমূলের মুসলিম ভোট ভাগ হয়ে গেলে, বিজেপি কি লাভবান হবে? সেই সব প্রশ্ন জোরাল হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

Continues below advertisement

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা মনে করছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবার হিন্দু ভোটও খোয়াবে। মুসলমান ভোটও খোয়াবে। না থাকবে বাঁশ, না থাকবে বাঁশি। অন্যদিকে তৃণমূলের কুণাল ঘোষ বলছেন, 'বিজেপির ভোট ভাগ করার কৌশলের মুখোশধারী যে বিজেপির বি-টিম, সি-টিম, ডি-টিম যেগুলো আছে, যারা সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করতে বিবৃতি দিচ্ছেন তারা নাকি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বেন বলে, তারা বিজেপির হাতেই তামাক খাচ্ছেন কিনা সেটা ভাল করে খোঁজ নেবেন।'

১৯৬৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন আসনের ফল প্রকাশের শুরুতেই ইঙ্গিত মিলেছিল যে, মুসলিম প্রধান এলাকায় কংগ্রেসের ভরাডুবি হচ্ছে। সব মুসলিম প্রধান এলাকাতেই এই ধারা অব্যহত থাকলে কংগ্রেসের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন। কংগ্রেস, অ-কংগ্রেসি নেতাদের এই আন্দাজ মিলে গেছিল। যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকার। যার অন্যতম কারণ ছিল মুসলিম প্রধান এলাকায় কংগ্রেসের ভোটে ধস। যুক্তফ্রন্ট সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কংগ্রেস বাহাত্তরে ফের ক্ষমতায় ফিরেছিল। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরের জন্য। ১৯৭৭-এ জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার গঠনের পর কংগ্রেসের পক্ষে আর ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি। কারণ, মুসলিম ভোটের সিংহভাগ তার পর থেকে বামফ্রন্টের সঙ্গেই থেকেছে। এভাবেই যুগে যুগে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোট প্রাসঙ্গিক থেকেছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজনীতি হচ্ছে সম্ভাবনার শিল্প । এবার ভোটে শেষ অবধি কে কার সঙ্গে জোট করবে, ভোটের ফলে তার কী প্রভাব পড়বে, সে সবই বোঝা যাবে EVM খোলার পর।