কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বামেদের রিপোর্ট কার্ডে সংখ্যা কমতে কমতে তা শূন্যতে এসে ঠেকে। যে বিধানসভা ছিল বামেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায়, সেই বিধানসভায় বামেরা হয়ে যায় শূন্য। গত বছর লোকসভা নির্বাচনে দীপ্সিতা, মীনাক্ষী, সৃজন, শতরূপ, ঐশীরা মাঠে নামলেও বদল কিছুই হয়নি। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শূন্যহাতেই ফিরতে হয়েছে বামেদের। তবে তরুণদের হাত ধরে 'মহাশূন্যর' গেরো কাটানোর পরিকল্পনা ছিল এবার বামেদের। প্রথম দিকের ট্রেন্ডে সেদিকে এগোলেও পরে কোনক্রমে হয় মুখরক্ষা। ডোমকলে মোস্তাফিজুর রানার হাত ধরে শূন্য থেকে এক- এ এল বামেরা।  

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঝড়ে যেখানে আসনে দুই সংখ্যার গণ্ডি পেরতে পারল না তৃণমূল সেখানে ১টি আসন পেয়ে এতদিনের দুর্ভাগ্য ঘোচালো বামেরা। বিধানসভা  নির্বাচনে মোস্তাফিজুর ডোমকলে ১ লক্ষ ৭ হাজার ভোট পেয়েছেন। মোট ভোটের ৪১ শতাংশ। সেখানে সিপিএম-এর তরুণ তুর্কীরা কোথায় কে কত পেলেন? 

উত্তরপাড়ায় - মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় পরাজিত ৩০ হাজার ৭৯২ ভোটে 

Continues below advertisement

পানিহাটিতে- কলতান দাশগুপ্ত পরাজিত ৬৩ হাজার ৯৪৫ ভোটে

দমদম উত্তর- দিপ্সীতা ধর পরাজিত ৬৪ হাজার ৮৫৬ ভোটে 

ভবানীপুরে- শ্রীজীব বিশ্বাস পরাজিত ৭০ হাজার ৩৬১ ভোটে

বালিগঞ্জে- আফ্রিন বেগম ১ লক্ষ ১২ হাজার ৯৬ ভোটে পরাজিত হয় 

এবারে তরুণদের মধ্যে এরাই জনপ্রিয় মুখ। মীনাক্ষী, কলতান, দীপ্সিতারা দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে ময়দানে থাকলেও প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে অনেকটাই পিছিয়ে। প্রথম স্থান তো দূরঅস্ত। দ্বিতীয় স্থানেও নেই কেউ। সকলের স্থান ওই তিন নম্বরেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তরপাড়ায় ভালো লড়াই করেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ত্রিমুখী লড়াইয়ে প্রায় ৫০ হাজার ভোট পেয়েছেন তিনি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট প্রায় ২৫ শতাংশ। দমদম উত্তর কেন্দ্রে তিনি ১৭.২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ২৮ হাজারের বেশি। এদের জামানত জব্দ হয়নি। তবে পানিহাটিতে বহু চর্চিত প্রার্থী কলতান জামানত রক্ষা করতে পারেননি। তিনি মোটে ২৩ হাজার ভোট পেয়েছেন। শতাংশের বিচারে ১৩.৭৩। বরানগরে সায়নদীপ মিত্ররও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনি মোটে ১১ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। 

অন্য সিপিএম প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছেন জলঙ্গির ইয়ানুস আলি সরকার। তিনি প্রায় ২৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। খড়গ্রামের বামপ্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা প্রায় ৪১ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। করণদিঘির সিপিএম প্রার্থী হাজি শাহাবুদ্দিন  তাঁর মোট প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজারের কম। তবে সামান্য ব্যবধানে জামানত বাঁচিয়েছেন শাহাবুদ্দিন। হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটে।