পীরজাদা পরিবারের ছেলে। ২০২১ সালেই প্রথম ভোটে লড়ার অভিজ্ঞতা। তবে প্রথমবারই আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করে বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। এরপর যতদিন গিয়েছে বঙ্গ-রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন নৌশাদ। এবারও তিনি প্রার্থী। কেন্দ্র অবশ্যই ভাঙড়। ইতিমধ্যেই একাধিক জনসভায় প্রত্যয়ী ভাষণ দিয়েছেন। তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষুরধার আক্রমণ করেছেন। কিন্তু গত ৫ বছরে কতটা বদলেছে নৌশাদের আয়, সম্পত্তি ? কতটা লম্বা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার তালিকা ? ২০২১ ও ২০২৬ সালের হলফনামা তুলনা করলে উঠে আসছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আশ্চর্যজনক ভাবে নৌশাদের বার্ষিক আয় কমে গিয়েছে আর বেড়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা।
বার্ষিক আয়
হলফনামা অনুসারে নৌশাদের বয়স এখন ৩৩। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ। বিয়ে করেননি। তাঁর উপর পরিবারে নির্ভরশীল নন কেউই। গত কয়েক বছরে আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। ২০২১ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার বেশি। তবে ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ৬ লক্ষ ৬১ হাজার টাকায়। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে তাঁর আয়ে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।
২০২০-২১: ₹14.09 লাখ২০২১-২২: ₹4.74 লাখ২০২২-২৩: ₹5.01 লাখ২০২৩-২৪: ₹4.87 লাখ২০২৪-২৫: ₹6.61 লাখ
অস্থাবর সম্পত্তিঅস্থাবর সম্পত্তির দিক থেকেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালে তাঁর মোট সম্পত্তি ছিল প্রায় ৭ লক্ষ টাকার কিছু বেশি এবং হাতে নগদ ছিল প্রায় ২৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০২৬ সালে মোট অস্থাবর সম্পত্তি বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৩.৫ লক্ষ টাকা এবং নগদ রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
স্থাবর সম্পত্তি স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালে তাঁর নামে প্রায় ১৯ লক্ষ টাকার স্থাবর সম্পত্তি ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের হলফনামায় কোনও স্থাবর সম্পত্তির উল্লেখ নেই। অর্থাৎ এই সম্পত্তি আর তাঁর নামে নেই বা পরিবর্তিত হয়েছে। কোথায় গেল আগের সব স্থাবর সম্পত্তি , তা উল্লেখ করেননি নৌশাদ।
ফৌজদারি মামলা ২০২১ সালের হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও বিচারাধীন মামলা ছিল না। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭টি। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা হয়নি। কী কী আইনে মামলা ?
Rioting, Unlawful Assembly, সরকারি কর্মচারীর উপর হামলা, Explosives Act, Damage to public property - ইত্যাদি বিভিন্ন আই নে মামলা রয়েছে।
ঋণ ও গয়নাঋণ ও গয়নার ক্ষেত্রে দুই বছরেই একই ছবি—কোনও ঋণ নেই, গয়নাও নেই।
