কলকাতা : ভাঙড়ে ফের প্রার্থী হয়েছেন বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। আর এবার তাঁর সামনে তৃণমূলের সওকত মোল্লা। ভাঙড়ে আইএসএফ ও তৃণমূলের মধ্যে লড়াই যে এবার বেশ টানটান লড়াই হতে যাচ্ছে, এ কথা কোনও রাজনীতি সচেতন মানুষই অস্বীকার করবে না। কিন্তু ভাঙড়ে কি এবারে লড়াই খুব কঠিন? কী বলছেন ISF প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি?
রাজনীতির ময়দানে নেমে ঠিক ৫ বছর আগে প্রথম নির্বাচনেই বিশ্লেষকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন নৌশাদ সিদ্দিকি। এককথায় তৃণমূলের গড় নামে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রথম লড়াইয়েই তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ভাঙড় আসনটা। আর এবারের নির্বাচনেও সেই একই কেন্দ্র থেকে ISF -এর প্রার্থী সেই নৌশাদ সিদ্দিকিই। তবে, এবারের লড়াই বেশ কিছুটা বেশিই কঠিন। মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এবার তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূলের পোড় খাওয়া নেতা সওকত মোল্লা। এ ছাড়াও ভাঙড়ে এবার প্রার্থী দিয়েছে হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও।
ফলে, এবারের লড়াই হবে জোরদার। কিন্তু লড়াই নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ISF প্রার্থী ও বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। এবারের নির্বাচনে ভাঙড়ের ফলাফল কী হতে পারে, সেই কথাও বললেন ISF প্রার্থী। কথা বলতে গিয়ে নাম না করেও তিনি নিশানা করলেন বিপক্ষকে। নৌশাদ সিদ্দিকি বলছেন, "এবারে মানুষ মনস্থির করে দিয়েছে ভাঙড়ে কোনও নটোরিয়াস ক্রিমিনালকে বা কোনও বোম বাঁধা লোককে জেতাবে না। এতে ভাঙড়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে।" বোমাবাজি থেকে মারমারির কেন্দ্রে সব সময় ভাঙড়, এই নিয়েও মুখ খোলেন নৌশাদ। তিনি বলেন, "কিছু রাজনীতির কারবারিরা ভাঙড়কে হটস্পট রয়ে রেখেছে। এখানের মানুষ খুবই সহজ ও সরল। এরা হিংসা, মারামারি পছন্দ করে না। মানুষের জন্য কাজ করতে মানুষের সঙ্গে থাকতে চায় এরা।"
নির্বাচন একেবারে সামনে। ফলে, প্রচর তুঙ্গে। শুধু নিজের নয়, দলের একাধিক প্রার্থীর হয়ে প্রচর করছেন ভাঙড়ের ISF প্রার্থী। একই সঙ্গে ভাঙড় নিয়েও অঙ্ক কষছেন নৌশাদ সিদ্দিকি। তিনি বলছেন, "২০২১ সালে যাঁরা আমাকে ভোট দেননি, ২০২৬ সালে তাঁরা আমাকে ভোট দেবেনই। কারণ, গত ৫ বছরে ওয়েট ল্যান্ড থেকে হসপিটাল, ভাঙড়ের যা উন্নয়ন হয়েছে, সবই আমার জন্যই হয়েছে।" তবে তিনি এটাও বলেন, যে সেগুলোর উদ্বোধনে ফিতে কাটছেন সওকত মোল্লা। "তবে, দাবি আমার ছিল। সেটা ভোটাররা বুঝছেন। ফলে, তাঁরাও এবার আমাকে ভোট দেবেন", বলছেন নৌশাদ সিদ্দিকি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১ লক্ষের বেশি ভোট পেয়েছিলেন নৌশাদ সিদ্দিক। আবার ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর লোকসভার অন্তর্গত বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলে অনেক বেশি ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। অন্য কোনও দল তার ধরে কাছে আসতে পারেনি। আর এবারের নির্বাচনে দেখার যে কী হতে চলেছে ভাঙড়ে।
