ইসলামাবাদ : পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন জন মহিলা ও একটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বান্নু জেলা-র ডোমেল তহশিলে একটি থানাকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলাকারীরা গাড়ি নিয়ে হামলা চালায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দূরদূরান্ত পর্যন্ত শব্দ শোনা যায় এবং আশপাশের বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Continues below advertisement

এই বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, থানাটিই ছিল হামলাকারীর মূল লক্ষ্য। ঘটনায় অন্তত চারজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর।

বিস্ফোরণের পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে প্রশাসন। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই হামলার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। 

Continues below advertisement

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ, বিশেষ করে বান্নু জেলা-সহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই উপদ্রুত এলাকা।  এই এলাকা এ ধরনের বিরোধী কার্যকলাপ ও আত্মঘাতী হামলার জন্য স্পর্শকাতর অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আফগানিস্তানের সীমানা লাগোয়া হওয়ায় এই এলাকায় বিভিন্ন বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর প্রভাব বহু বছর ধরেই বিদ্যমান। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন আক্রমণের পর এই অঞ্চলে ধরনের কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে, যারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ স্টেশন এবং সরকারি স্থাপনাকে বারবার নিশানা করেছে।

গত এক দশকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একাধিক বড়সড় আত্মঘাতী হামলার নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে পেশোয়ার-এর আর্মি পাবলিক স্কুলে জঙ্গি হামলায় শতাধিক ছাত্র-সহ প্রায় ১৫০ জন নিহত হয়, যা পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ  হামলা হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও ২০২৩ সালে পেশোয়ারের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়, যার লক্ষ্য ছিল পুলিশকর্মীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলার প্রধান উদ্দেশ্য হল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তান সরকার জঙ্গি দমনে একাধিক অভিযান চালালেও সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনও বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে।