পানিহাটি: মেয়ের বিচারের লক্ষ্যে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন, পানিহাটিতে জয়ী 'অভয়া'র মা। প্রায় ২৭ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে হারিয়ে দিয়েছেন বিজেপির হয়ে এবার নির্বাচনে দাঁড়ানো 'অভয়া'র মা রত্না দেবনাথ। আর জি কর ইস্য়ু গোটা বাংলাকে উত্তাল করেছিল। নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়ে চলে যেতে হয়েছিল তাঁর মেয়েক। এরপর বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন। বিচারের দাবিতে শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী হয়ে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে। নির্বাচনী প্রচারে প্রথম দিন থেকেই আশাবাদী ছিলেন জয়ের বিষয়ে। হুঙ্কারও ছুড়েছিলেন যে তৃণমূলকে উৎখাত করবেনই।
এদিন জয়ের পর সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে 'অভয়া'র মা রত্না দেবনাথ জানিয়েছেন, 'এটা পানিহাটি মানুষের জয়। সারা বাংলার মানুষের জয়। এই জয় আমি মোদিজিকে উৎসর্গ করছি। তাঁকে প্রণাম জানাচ্ছি। এই পানিহাটিকে এই ঘোষ পরিবারের অপশাসন থেকে মুক্ত করতে পেরেছি, এটার জন্য়ই আমি খুশি। এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব হত না। এটা তাঁদের সবার লড়াইয়ের ফসল। পানিহাটির মানুষের লড়াইয়ের জয়।'
রত্না দেবনাথ আরও বলেন, 'আমার পাশে যাঁরা যাঁরা আমার সহযোদ্ধা। তাঁরা ছাড়া আমি এই জয় ছিনিয়ে আনতে পারতাম না। পানিহাটিবাসীকে বলব যে আমি জিতেছি মানে গোটা পানিহাটিবাসী জিতেছে। আমার মেয়ে পদ্মফুল ভালবাসত, সেই এই বাংলায় পদ্মফুল ফুটিয়ে দিয়েছে।'
প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন অভয়ার মা, পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। আর জি কর মেডিক্যালে মেয়ের ধর্ষণ, খুনের প্রসঙ্গ তুলে, মূলত নারী নিরাপত্তাকে ইস্যু করেই প্রচার চালিয়েছিলেন অভয়ার মা। এই নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছিল 'অভয়া'র মা। কিন্তু সেখান থেকে লড়াই করে এই জয় ছিনিয়ে এনেছেন রত্না দেবনাথ। প্রথম দুটো, তিনটি রাউন্ডের পর থেকেই রত্না দেবনাথ এগিয়ে ছিলেন। এরপর থেকে আর একবারের জন্যও পিছিয়ে যাননি তিনি। দ্বিতীয় স্থানে তীর্থঙ্কর ঘোষ ও তৃতীয় স্থানে সিপিএমের কলতান দাসগুপ্ত।
